|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া রাকিবের বাড়িতে নেই আনন্দ, মিষ্টির পরিবর্তে চলছে কুলখানি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
১৬৯ পঠিত
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া রাকিবের বাড়িতে নেই আনন্দ, মিষ্টির পরিবর্তে চলছে কুলখানি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের শিকার সেই রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে রাকিবুল অনুপস্থিতিতে বাড়িতে নেই কোনো আনন্দ-উচ্ছ্বাস। মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে উল্টো আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। এতিম শিশুদের খাওয়ানো...

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের শিকার সেই রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে রাকিবুল অনুপস্থিতিতে বাড়িতে নেই কোনো আনন্দ-উচ্ছ্বাস। মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে উল্টো আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। এতিম শিশুদের খাওয়ানো ও রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন তার বন্ধু ও স্বজনরা।

জানা গেছে, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন রাকিব। স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ব্যারিস্টার হবেন, দেশের সেবা করবেন এবং মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবেন।

পরিবারের ইচ্ছা ছিল ছেলে ভালো ফল করলে বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিতরণ করবেন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। সেই কাঙ্ক্ষিত দিন এসেছে বটে, তবে শোক নিয়ে। যে বাড়িতে আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা।

রোববার (১ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, নিহত রাকিবের ঘরে তার বই খাতা টেবিলে সাজিয়ে রেখেছে মা জোহরা বেগম। সঙ্গে রেখেছেন রাকিবের ছবি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পুরস্কার সম্মাননা।

তার পরিবারের দাবি, হত্যা মামলার নেই তেমন কোনো অগ্রগতি। নিহত রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।

রাকিবের মা জোহরা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করেছি। স্কুলে সব সময় প্রথম হতো। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় ভর্তি প্রস্তুতি নিতে গিয়েছিল। আমার ছেলের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে তারা।

রাকিবের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, রাকিব আজ বেঁচে থাকলে আমাদের মিষ্টি খাওয়াত। আমি চাই, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আজ ভাতিজার জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার পরিবর্তে কুলখানির আয়োজন করেছি। এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি, যেন তারা আমার ভাতিজার জন্য দোয়া করে।

রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি আর আমার ভাই একসঙ্গে ঘুমাতাম, লেখাপড়া করতাম। আমার ভাইয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে ব্যারিস্টার হবে। আজ ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও মিষ্টি খাওয়ানোর মতো অবস্থা আমাদের নেই। তাই এতিম শিশুদের খাবারের আয়োজন করেছি, যেন তারা আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

সূত্র: কালবেলা