কালবেলার ভিডিও ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়াল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে রাজপথে নামার দৃশ্যকে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বিক্ষোভ হিসেবে প্রচার করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’। গত ১ নভেম্বর ঢাকার মিরপুরে ধারণ করা শ্রমিক আন্দোলনের পুরোনো একটি ভিডিও ব্যবহার করে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ও বন্দর প্রকল্প...
বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে রাজপথে নামার দৃশ্যকে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বিক্ষোভ হিসেবে প্রচার করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’। গত ১ নভেম্বর ঢাকার মিরপুরে ধারণ করা শ্রমিক আন্দোলনের পুরোনো একটি ভিডিও ব্যবহার করে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ও বন্দর প্রকল্প ঘিরে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার বিভ্রান্তিকর দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। অথচ ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সেদিন সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাক শ্রমিকরা। কালবেলার ফ্যাক্ট চেকে ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও ঘটনার প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে।
শ্রমিকদের আন্দোলন, টাইমস নাউয়ের রাজনৈতিক বয়ান
টাইমস নাউ তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে অন-স্ক্রিন টেক্সট ও রাজনৈতিক বক্তব্য যুক্ত করে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং বন্দর প্রকল্পসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তবে ভিডিওটির দৃশ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কোনো ভারতবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির ফুটেজ নয়। বরং গত ১ নভেম্বর ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের দৃশ্য। ভিডিওটির মূল উৎস দৈনিক কালবেলার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি লাইভ সম্প্রচার।
অর্থাৎ, একটি বাস্তব শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ব্যবহার করে তার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জুড়ে দিয়েছে টাইমস নাউ।
কেন রাজপথে নেমেছিলেন শ্রমিকরা?
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্তমান বেতনে সংসার চালানোর অসুবিধার কথা তুলে ধরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান পোশাক শ্রমিকরা।
গত ১ নভেম্বর সকালে এই দাবিতে মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে ওই এলাকার যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলন চলাকালে একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহারসহ বলপ্রয়োগ করে। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কালবেলার ফ্যাক্ট চেকে যা উঠে এসেছে
কালবেলার ফ্যাক্ট চেকে ভিডিওটির মূল উৎস ও প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাই করে দেখা যায়, টাইমস নাউয়ের প্রচারিত ফুটেজটি মূলত পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত আন্দোলনের। ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ কিংবা শেখ হাসিনা, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ও বন্দর প্রকল্প নিয়ে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক নেই।
ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল করে তাতে ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও ক্যাপশন যুক্ত করায় টাইমস নাউয়ের প্রচারিত দাবিকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে কালবেলা।
শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক বিক্ষোভ হিসেবে উপস্থাপন
একটি নির্দিষ্ট আর্থসামাজিক দাবিতে সংঘটিত শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিওকে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বিক্ষোভের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে টাইমস নাউ। এতে শুধু ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপটই বিকৃত হয়নি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, মিরপুরের ওই আন্দোলন ছিল ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের কর্মসূচি। সেটিকে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে প্রচারের পক্ষে ভিডিওটিতে কোনো প্রমাণ নেই।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স