|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ক্ষমা চাওয়ার পরেও কেন অভিমান দূর হয় না?

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
২০৫ পঠিত
ক্ষমা চাওয়ার পরেও কেন অভিমান দূর হয় না?
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ক্ষমা চাইলেও কেন অনেক সময় মানুষের মন গলে না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কেউ কষ্ট পেলে তিনি চান, অন্যজন তার কষ্টটা বুঝুক এবং নিজের ভুলটা অন্তত স্বীকার করুক। কিন্তু কেবল মুখে দুঃখ প্রকাশ করলেই এই চাওয়া পূরণ হয় না। মনোবিজ্...
ক্ষমা চাইলেও কেন অনেক সময় মানুষের মন গলে না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কেউ কষ্ট পেলে তিনি চান, অন্যজন তার কষ্টটা বুঝুক এবং নিজের ভুলটা অন্তত স্বীকার করুক। কিন্তু কেবল মুখে দুঃখ প্রকাশ করলেই এই চাওয়া পূরণ হয় না। মনোবিজ্ঞানী রয় বাউমিস্টার এ বিষয়ে একটি ধারণা দিয়েছেন। তিনি একে বলেছেন ‘ম্যাগনিটিউড গ্যাপ’। সহজ করে বললে, যিনি কষ্ট দিয়েছেন, তিনি নিজের ভুল যেভাবে দেখেন, যিনি কষ্ট পেয়েছেন তার কাছে সেটি বেশি গুরুতর। এই দুই পক্ষের ভাবনার পার্থক্যের কারণে ক্ষমা চাইলেও অনেক সময় মন গলে না। একটি গবেষণায় বিষয়টি পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা। অংশগ্রহণকারীদের একটি অনলাইন খেলায় অন্যায় আচরণের শিকার হতে হয়। এরপর তাদের কাছে চার ধরনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। কেউ কেবল দুঃখ প্রকাশ করেন। কেউ বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে অন্যায় করেছি।’ কেউ ভুল স্বীকারের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করেন। আর কেউ কোনো প্রতিক্রিয়াই জানান না। গবেষণায় দেখা যায়, কেবল ‘দুঃখিত’ বলার চেয়ে ভুল স্বীকার করা বেশি কার্যকর। এতে যিনি কষ্ট পেয়েছেন তিনি বুঝতে পারেন, তার কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্ষমা করাও সহজ হয়। অর্থাৎ, ‘আমি দুঃখিত’ বলার পাশাপাশি বলতে হবে, ‘আমি আপনার সঙ্গে অন্যায় করেছি।’ এতে নিজের ভুলের দায়ও নেওয়া হয়। তবে ক্ষমা চাওয়ার সময় কিছু কথা এড়িয়ে চলা ভালো। যেমন, ‘আপনি রাগ করেছেন বলে আমি দুঃখিত’ কিংবা ‘আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত।’ এ ধরনের কথায় নিজের ভুল স্বীকার করা হয় না। বরং অন্যজনের প্রতিক্রিয়াকেই দায়ী করা হয়। কখনো কোনো ঘটনা নিয়ে দুজনের ভাবনা এক নাও হতে পারে। একজনের কাছে বিষয়টি খুব কষ্টের, অন্যজনের কাছে ততটা নয়। তবু অন্যজনের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া যায়। যেমন বলা যেতে পারে, ‘বিষয়টি আমি আপনার মতো করে দেখিনি। কিন্তু আমার কথায় যে আপনি কষ্ট পেয়েছেন, তা বুঝতে পারছি।’ এতে নিজের মত বদলাতে হচ্ছে না। আবার অন্যজনের অনুভূতিকেও ছোট করা হচ্ছে না। তবে কেবল ভুল স্বীকার করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। বড় কোনো অন্যায় হলে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়। আচরণেও পরিবর্তন আনতে হয়। ভুলে গেলে চলবে না, বিশ্বাস ফিরতে সময় লাগতে পারে। তাই ক্ষমা চাইতে হলে আগে বুঝতে হবে, নিজের আচরণে অন্যজন কতটা কষ্ট পেয়েছেন। এরপর সেই কষ্টের কথা স্বীকার করতে হবে। নিজের ভুলের দায়ও নিতে হবে। কারণ, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার মানে কেবল ‘দুঃখিত’ বলা নয়। এর অর্থ হলো, ‘আমার আচরণে আপনি কষ্ট পেয়েছেন, আমি তা বুঝতে পারছি। আর এই ভুলটা আমারই।’ সূত্র: সাইকোলজি টুডে

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স