|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চুরির অপবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১০ পিএম
৩৭৮ পঠিত
চুরির অপবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীকে বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এই বৃদ্ধাকে শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি গাছের চিকন ডাল দিয়ে পেটাচ্ছেন।

গাইবান্ধায় চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধাকে গাছে বেঁধে বেদম পেটানো হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ওই নারীর দুই হাত ও দুই পা গাছের সঙ্গে বাঁধা। তাঁকে শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি গাছের চিকন ডাল দিয়ে পেটাচ্ছেন।

প্রতিবার আঘাতের পর চিৎকার করে ও কান্নাজড়িত গলায় বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন ওই নারী। ‘ও আল্লারে, ও আল্লারে’, ‘ও বাবা, ও মা রে’, ‘মোক ক্যা ডাঙ্গাস রে (আমারে মারছিস কেন)’ ইত্যাদি বলে চিৎকার করছিলেন। পাশে থেকে একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ওর পায়োত ভালো করি গেরন (শক্ত করে বাঁধা) দেও।’ আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ক্যামনে বানদোন দিলু...।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনাটি ২ নভেম্বরের। গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর বিরুদ্ধে ছাগল ও সেচপাম্পের মোটর চুরির অপবাদ তোলে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে পেটানো হয়।

নারীকে গাছে বেঁধে পেটানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কী চুরির অপবাদে ওই নারীকে পেটানো হয়েছে, তা জানা যায়নি। আমি বৃদ্ধাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম।’

ঘটনার পর বাড়িতেই ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর বেশি অসুস্থ হলে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের ২২ নম্বর শয্যায় তিনি চিকিৎসাধীন।

আজ শুক্রবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী বলেন, ‘হামরা কোনো দোস করি নাই, তাও ওমরা হামাক গাছোত বানিদি মারচে। গায়োত বিষ (ব্যথা) হয়া আচে।’

তবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ আসিফের ভাষ্য, ওই নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালের ২২ নম্বর শয্যায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি খাওয়া-দাওয়া করেছেন, তাঁর শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে এই ঘটনায় নির্যাতিত নারীর ছেলে বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে একই গ্রামের সাদা মিয়াসহ (৩৫) চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই নারী মানসিক রোগী। তিনি নিজের খেয়ালখুশিমতো যখন যেখানে যাতায়াত করেন। এলাকায় তাঁকে ‘পাগলী’ হিসেবে চেনে। ২ নভেম্বর সকালে সাদা মিয়া কাজের কথা বলে ওই নারীকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। তারপর সাদা মিয়া তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। ওই দিন দুপুরে সাদা মিয়ার বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার বাদী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাদা মিয়া ও তাঁর লোকজন অন্যায়ভাবে গাছে বেঁধে আমার মাকে মেরেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। অপরাধীদের ফাঁসি চাই।’

অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত সাদা মিয়া। তাঁর মুঠোফোনের সংযোগও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাদা মিয়ার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো