|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

দুই বছর বয়সে মা–বাবার বিচ্ছেদ, নানির কাছে বড় হয়ে বদলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ধারা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
৪২২ পঠিত
দুই বছর বয়সে মা–বাবার বিচ্ছেদ, নানির কাছে বড় হয়ে বদলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ধারা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
রিপাবলিকান জন ম্যাককেইনকে হারিয়ে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। তাঁর জয় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

২০০৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইতিহাস গড়েন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ প্রেসিডেন্ট হবেন, এটা ছিল কল্পনার বাইরে। ওই বছরের ৪ নভেম্বর সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিলেন বারাক ওবামা। তাঁকে নিয়ে আজকের আয়োজন।

বারাক ওবামার নানি ম্যাডেলিন ডানহ্যাম মারা যান ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর। নানিকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছিলেন ওবামা। এই নানিই তাঁকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছিলেন। তবে শোকের সেই সময়েই তাঁর জীবনে আসে সবচেয়ে বড় সুখবর। দুই দিন পর, ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন ওবামা।

সেই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওবামা পান ৩৬৫টি ইলেকটোরাল ভোট। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইন পান ১৭৩টি। পরের বছরের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে এটি ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার এক মুহূর্ত।

পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কিন ভোটারদের মন কেড়েছিলেন ৪৭ বছর বয়সী ওবামা। ওবামা এমন এক সময়ে রাজনীতির বড় মঞ্চে এসেছিলেন, যখন আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক যুদ্ধ ও রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন নিয়ে মার্কিন সমাজের সর্বত্র চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

এমন পরিস্থিতিতে বাগ্মী ওবামার প্রতিটি ভাষণ মার্কিন নাগরিকদের নতুন আশায় উদ্দীপ্ত করেছিল। তাঁর মূল নির্বাচনী স্লোগান ছিল—‘চেঞ্জ উই ক্যান বিলিভ ইন’, তথা এমন পরিবর্তন দরকার, যেটাতে আমরা আস্থা রাখতে পারি। তা ছাড়া ওবামার বক্তৃতায় ‘ইয়েস উই ক্যান’, ‘হোপ’ বা ‘চেঞ্জ উই নিড’ ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ প্রায় শোনা যেত।

সেই ঐতিহাসিক জয়ের ১৮ বছর পূর্তির আগ মুহূর্তে ওবামা আবারও নির্বাচনী প্রচারমঞ্চে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এবার অবশ্য নিজের জন্য নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার বিজয় উদ্‌যাপন করতে শিকাগোয় তাঁর নির্বাচনী সমাবেশে জড়ো হন সমর্থকেরা

হাওয়াই থেকে শিকাগো

ওবামার জন্ম ১৯৬১ সালের ৪ আগস্ট, হাওয়াইয়ের হনলুলুতে। মা অ্যান ডানহ্যাম ছিলেন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক। বাবা বারাক ওবামা সিনিয়র কেনিয়ার। দুই বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর ওবামার শৈশবের কয়েক বছর কাটে ইন্দোনেশিয়ায়। পরে হাওয়াইয়ে ফিরে নানা-নানির কাছে বড় হন। কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় আর শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা পরে উঠে আসে তাঁর ‘ড্রিমস ফ্রম মাই ফাদার’ নামক বইয়ে। বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন ওবামা। ১৯৮৫ সালে শিকাগোয় যান কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। এরপর হার্ভার্ডে আইন বিষয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালে হার্ভার্ড ল রিভিউয়ের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ সভাপতি হন।

শিকাগোর একটি আইন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় মিশেল রবিনসনের সঙ্গে পরিচয়। মিশেল ছিলেন ওবামার কাজের তত্ত্বাবধায়ক। ১৯৯২ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। রাজনীতির বড় মঞ্চে ওঠার আগেই গড়ে ওঠে তাঁদের সংসার।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর শিকাগোয় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা

একটি জয়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম

ওবামার জয়ের তাৎপর্য বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে দেড় শ বছর আগে। ১৮৬৫ সালে মার্কিন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলোপ করা হয় দাসপ্রথা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকারের লড়াই চলে আরও অনেক দিন।

বিংশ শতাব্দীতেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বর্ণবৈষম্যে গভীরভাবে বিভক্ত ছিল। কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটার হতে নানা বাধার মুখে পড়তে হতো। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রসহ অন্য অধিকারকর্মীদের আন্দোলনের মুখে ১৯৬৪ সালে নাগরিক অধিকার আইনে প্রণীত হয়। পরের বছর ভোটাধিকার আইন বর্ণের ভিত্তিতে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের সুরক্ষা জোরদার করে।

ওবামা এমন এক সময়ে রাজনীতির বড় মঞ্চে এসেছিলেন, যখন আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক যুদ্ধ ও রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন নিয়ে মার্কিন সমাজের সর্বত্র চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

এই দুই আইন কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করে। তবে দেশটির সর্বোচ্চ পদে কোনো কৃষ্ণাঙ্গকে নির্বাচিত হতে অপেক্ষা করতে হয় আরও ৪৩ বছর। ২০০৮ সালে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ওবামা। নির্বাচনের পর পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আশা করেছিলেন, ওবামার জয় যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণগত সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

প্রত্যাশা অবশ্য বৈষম্য মুছে দেয়নি। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যু ঘিরে প্রতিবাদ জোরদার হয়। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন সামনে আসে। পিউর ২০১৬ সালের গবেষণায়ও উঠে আসে গভীর বর্ণবিভাজন।

ওবামাও মিথ্যা প্রচারের শিকার হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হয়নি। তবে তাঁর জন্মনথি এ দাবি খণ্ডন করে। ২০১৬ সালে ট্রাম্পও স্বীকার করেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই।

২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর শিকাগোয় সমর্থকদের সামনে মঞ্চে আসেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিশেল ও দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া

হারের আট বছর পর হোয়াইট হাউস

ওবামার রাজনৈতিক উত্থান অবশ্য একটানা জয়ের গল্প নয়। ১৯৯৬ সালে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০০০ সালে প্রতিনিধি পরিষদের আসনে দলের মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে হেরে যান। জয়ী হন ববি রাশ।

এরপর ২০০৪ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে মূল বক্তৃতা দিয়ে সবার নজর কাড়েন ওবামা। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা দেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে হারান হিলারি ক্লিনটনকে।

২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট ওবামার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। আবাসন খাতের সংকট থেকে শুরু হয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছড়িয়ে পড়া এ মন্দায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। বাড়তে থাকে বেকারত্ব। ২০০৮ সালের অক্টোবরে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ম্যাককেইনের চেয়ে ওবামাকেই বেশি যোগ্য মনে করছিলেন ভোটাররা।

তরুণদের বড় অংশের সমর্থনও পেয়েছিলেন ওবামা। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের ৬৬ শতাংশ তাঁকে ভোট দেন। তবে শুধু তরুণদের ভোটই তাঁর জয়ের একমাত্র নির্ধারক ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (ডানে) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক কখনোই উষ্ণ ছিল না। এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাশিয়ার আশ্রয় দেওয়া, ক্রিমিয়া দখল এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদ সরকারকে মস্কোর সমর্থনসহ নানা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ ছিল। তাঁদের বৈঠকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হতো

সংকটের মধ্যে সংস্কারের লড়াই

২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন ওবামা। বুশ প্রশাসনের আমলে শুরু হওয়া আর্থিক খাতের উদ্ধার কর্মসূচিও এগিয়ে নেন। সংকটে পড়া গাড়িশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা দেন। তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

মিলার সেন্টারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাইকেল নেলসনের মতে, ওবামার বড় প্রভাবগুলোর একটি ছিল সম্ভাব্য দ্বিতীয় মহামন্দা ঠেকানো। তবে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল অর্জনগুলো উত্তরসূরিদের হাতে বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতি নিয়ে সমালোচনা ছিল। সিরিয়ার মানবিক সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ওবামার আমলের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হয়ে আছে
শিকাগোর একটি আইন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় মিশেল রবিনসনের সঙ্গে পরিচয়। মিশেল ছিলেন ওবামার কাজের তত্ত্বাবধায়ক। ১৯৯২ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। রাজনীতির বড় মঞ্চে ওঠার আগেই গড়ে ওঠে তাঁদের সংসার।

এত চাপের মধ্যেও পরিবারের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন ওবামা। ‘আ প্রমিজড ল্যান্ড’ নামের স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, রাতের খাবারের পর স্ত্রী মিশেল, দুই মেয়ে ও পোষা কুকুর বোকে নিয়ে হাঁটতে বের হতেন। সেই সময় নিজেকে স্বাভাবিক ও পরিপূর্ণ মনে হতো তাঁর।

নির্বাচনে জয়ের রাতেই মেয়েদের একটি কুকুরছানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওবামা। হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদে সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেন তিনি।

তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ওবামার বড় অঙ্গীকারগুলোর একটি ছিল স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার। ২০১০ সালে তিনি অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন। আইনটি ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিতি পায়। স্বাস্থ্যনীতি-বিষয়ক গবেষণা সংস্থা কেএফএফের (সাবেক কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন) হিসাবে, আইনটি পাসের আগের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রায় দুই কোটি বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা ছিল।

এই অর্জন নিয়েও বিতর্ক ছিল। কোনো নাগরিক চাইলে নিজের পছন্দের পুরোনো স্বাস্থ্যবিমা চালু রাখতে পারবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন ওবামা। কিন্তু নতুন আইনের শর্ত পূরণ না করায় অনেকের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য যাচাইকারী সংবাদমাধ্যম পলিটিফ্যাক্ট ২০১৩ সালে ওবামার এই আশ্বাসকে ‘লাই অব দ্য ইয়ার’ বা বছরের সেরা মিথ্যা বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দেয়।

প্রায় ১০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে অনুসন্ধানের পর ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ও ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন নিহত হন বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযানটি লাইভ দেখেন ওবামা

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত

২০১২ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনিকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। ইলেকটোরাল কলেজে তিনি পান ৩৩২ ভোট, রমনি পান ২০৬ ভোট।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্যান্ডি হুক স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত শিশুদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১২ সালের ওই হামলায় ২০ শিশু ও ৬ প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন

দ্বিতীয় মেয়াদে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ওবামা। ২০১২ সালে স্যান্ডি হুক স্কুলে বন্দুক হামলার পর অস্ত্র ক্রেতাদের অতীত যাচাইয়ের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় তাঁর প্রশাসন। কিন্তু ২০১৩ সালের এপ্রিলে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। পক্ষে ভোট পড়ে ৫৪টি, বিপক্ষে ৪৬টি।

তবে এ মেয়াদে সামাজিক অধিকার প্রশ্নে সফল হয়েছিলেন ওবামা। ২০১২ সালে সমলিঙ্গের বিয়ের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ওবামা। তিন বছর পর, ২০১৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে দেশজুড়ে সমলিঙ্গের বিয়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেন। ওবামা এ রায়কে স্বাগত জানান।

অভিবাসননীতিতে ওবামার ভূমিকা ছিল দুই রকম। শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা কিছু তরুণ অভিবাসীকে বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দিতে ২০১২ সালে ‘ডাকা’(ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস) কর্মসূচি চালু করেন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২৮ লাখ অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করে দেশটির প্রশাসন। এই হিসাবের মধ্যে সীমান্তে আটক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

১৯৬০-এর দশকে শৈশবে সমুদ্রে খেলছেন বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

নোবেলজয়ীর যুদ্ধ ও কূটনীতি

বারাক ওবামা ২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সহযোগিতা জোরদারে তাঁর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসও পার হয়নি তাঁর।

ওবামার নির্দেশে ২০১১ সালে পাকিস্তানে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। একই বছরের শেষে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আফগানিস্তানে শুরুতে সেনা বাড়ান ওবামা। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সেখানে আরও ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন। পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো হয়।

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর ২০১৪ সালে ইরাকে আবার মার্কিন সেনা পাঠান ওবামা। ওই বছরের আগস্টে ইরাকে আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে সিরিয়াতেও আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু হয়।

এসব অভিযান ছিল ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শুরু করা ‘ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বিস্তৃত ধারার অংশ। ওবামার দুই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসবিরোধী মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত ছিল।

১৯৬০-এর দশকে শৈশবে মায়ের কোলে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

বিদেশে ড্রোন হামলা ওবামার আমলের অন্যতম বিতর্কিত সামরিক পদক্ষেপ। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষক মাইকা জেনকোর ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় ওবামার অনুমোদনে ৫৪২টি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় আনুমানিক ৩২৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

গুয়ানতানামো কারাগার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করতে পারেননি ওবামা। সেখানে কংগ্রেসের বাধা ছিল।

লেখালেখিতেও ওবামার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম খসড়ার জন্য পছন্দ কলম আর হলুদ কাগজের প্যাড। তাঁর মতে, কম্পিউটারে অসম্পূর্ণ ভাবনাও বেশি পরিপাটি দেখাতে পারে।

এডওয়ার্ড স্নোডেন ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) গোপন নথি ফাঁস করেন। এসব নথিতে সংস্থাটির ব্যাপক নজরদারি কর্মসূচির তথ্য প্রকাশ পায়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেয় ওবামা প্রশাসন। তাতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রের নজরদারির সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

লিবিয়ায় ২০১১ সালে সামরিক হস্তক্ষেপের পর দেশটির পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট পরিকল্পনা ছিল না বলে পরে স্বীকার করেন ওবামা। ২০১৬ সালে তিনি একে নিজের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল বলে উল্লেখ করেন। তবে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তকে তখনো সমর্থন করেছিলেন।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়। কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গড়তেও ওবামার প্রশাসন ভূমিকা রাখে। এগুলো দ্বিতীয় মেয়াদের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন।

১৯৬০-এর দশকে বাবা বারাক ওবামা সিনিয়রের সঙ্গে শৈশবের বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

বাংলাদেশ: সম্মাননা ও জিএসপি

বাংলাদেশের সঙ্গে ওবামার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ২০০৯ সালের ১২ আগস্টের। সেদিন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ দেন তিনি। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনূসকে এ পদক দেওয়া হয়।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বাংলাদেশের বাণিজ্য–সুবিধা ও শ্রম অধিকার নিয়ে। ২০১৩ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশকে দেওয়া জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস) সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওবামা প্রশাসন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি—এ কারণ দেখানো হয়।

রানা প্লাজা ধসের দুই মাস পর এ সিদ্ধান্ত আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নথিতে বলা হয়, শ্রম অধিকার ও কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে এর আগে থেকেই পর্যালোচনা চলছিল। এতে রানা প্লাজা ধসের পাশাপাশি তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

মাতামহ স্ট্যানলি ডানহাম (বাঁয়ে) ও মাতামহী ম্যাডেলিন ডানহামের সঙ্গে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

পরিবারের নতুন জীবন

ওবামা ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর বই লেখা, চলচ্চিত্র ও অনুষ্ঠান প্রযোজনা এবং ফাউন্ডেশনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। স্ত্রী মিশেলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হায়ার গ্রাউন্ড। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও পডকাস্ট তৈরি করে।

মিশেল এখন লেখালেখি ও পডকাস্টে সক্রিয়। বড় ভাই ক্রেগ রবিনসনের সঙ্গে পরিচালনা করেন ‘আইএমও’। সেখানে পরিবার, সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

বড় মেয়ে মালিয়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করছেন। পেশাগত কাজে তিনি ‘মালিয়া অ্যান’ নাম ব্যবহার করেন। তাঁর লেখা ও পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য হার্ট’ ২০২৪ সালের সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

ছোট মেয়ে সাশা ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক হন। তাঁর বর্তমান পেশা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

আ প্রমিজড ল্যান্ডের ভূমিকায় ওবামা লেখেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রথম মাসে তাঁরা দেরিতে ঘুম থেকে উঠতেন। সময় নিয়ে খেতেন। দীর্ঘ হাঁটায় যেতেন। আবার সম্পর্কের দিকে মন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

লেখালেখিতেও ওবামার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম খসড়ার জন্য পছন্দ কলম আর হলুদ কাগজের প্যাড। তাঁর মতে, কম্পিউটারে অসম্পূর্ণ ভাবনাও বেশি পরিপাটি দেখাতে পারে।

১৯৯২ সালের ১৮ অক্টোবর বিয়ের দিনে স্ত্রী মিশেলের সঙ্গে বারাক ওবামা। ছবিটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির প্রকাশ করেছিল

আবারও প্রচারের মঞ্চে

গত ১৮ জুন শিকাগোয় ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনে পরিবারের সবাইকে দেখা যায়। তাঁর ফাউন্ডেশন নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার কর্মসূচিও পরিচালনা করছে।

তবে এখন ৬৫ বছর বয়সী ওবামার ব্যস্ততার বড় অংশ মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে। গত ২৪ অক্টোবর ওহাইও ও মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। ২৮ অক্টোবর জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ ও গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন।

এবার ওবামার নিজের নাম ব্যালটে নেই। ভোট চাইছেন দলের প্রার্থীদের জন্য। ২০০৮ সালের সেই জয়ের বার্ষিকীর আগে ওবামা আবার মানুষকে ভোট দিতে যেতে অনুরোধ করছেন।

ওবামা গত ৩১ অক্টোবর জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসের জনসভায় অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বৈরাচারী মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থ পদক্ষেপ নিয়েও বিদ্রূপ করেন।

বক্তৃতায় ওবামা বলেন, ‘এই নির্বাচনই তাঁকে অন্তত নিয়ন্ত্রণে আনার, এই প্রশাসনের কিছু বোকামি থামানোর আমাদের শেষ ও সবচেয়ে ভালো সুযোগ। এটি ব্যবস্থার সার্কিট ব্রেকার। আর সেটি কার্যকর করতে আমাদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলাতে হবে।’

তথ্যসূত্র:

ক্যাটালিনি, এম. (২৯ অক্টোবর ২০২৬)। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্প ও ওবামা। নিউজ৪জেএএক্স।

নেলসন, এম. (তারিখ উল্লেখ নেই)। বারাক ওবামা: প্রভাব ও উত্তরাধিকার। মিলার সেন্টার, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

ওবামা, বি. (২৭ জুন ২০১৩)। বাংলাদেশের জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা স্থগিতের বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে বার্তা। দ্য আমেরিকান প্রেসিডেন্সি প্রজেক্ট।

ওবামা, বি. (২০২০)। এ প্রমিজড ল্যান্ড. ক্রাউন প্রকাশনী।

পিউ রিসার্চ সেন্টার। (২৭ জুন ২০১৬)। বর্ণ ও বৈষম্য নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য।

জেনকো, এম. (২০ জানুয়ারি ২০১৭)। ওবামার শেষ সময়ের ড্রোন হামলার তথ্য। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস।

সূত্র: প্রথম আলো