|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যকর পদক্ষেপ চান চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
৩৪০ পঠিত
দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যকর পদক্ষেপ চান চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে আগাম আবহাওয়া বার্তা ও দুর্যোগের পূর্বাভাস মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যুব স্বেচ্ছাসেবক এবং মেট ক্লাবের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য তিনি তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তাঁদের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

‘আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন এ কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে এ অনুষ্ঠান হয়। ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) এ সংলাপের আয়োজন করে।

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়ধসসহ বহুমাত্রিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারে প্রশিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশিক্ষিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাঁদের কার্যক্রমকে স্থানীয় সরকারের নিয়মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।

দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা ও বাঁশখালীতে। এই দুই স্থানের মানুষ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের (জিএফএফও) অর্থায়নে, সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ইপসা এটি বাস্তবায়ন করছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাইমস।

আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নিরাপদ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নগরবাসী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আল আমিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মীনাক্ষী বর্মন, ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান, সেভ দ্য চিলড্রেন ম্যানেজার জাভেদ মিয়ানদাদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইপসার পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী বর্মন জানান, দেশে ৬০-৭০ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবকের একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ডেটাবেজের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন সেভ দ্য চিলড্রেনের জাভেদ মিয়ানদাদ। তিনি বলেন, বহুমাত্রিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যুব স্বেচ্ছাসেবক প্ল্যাটফর্ম গঠন, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন উম্মে হুমাইয়ারা সায়কা আবসার। মেট ক্লাবের কার্যক্রম তুলে ধরেন অনিকেত, মুনতাহিনা জয়া ও আফরা ইমরোজ। এ ছাড়া রিসার্চ ফেলোশিপের গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন ইপসার মনিটরিং অফিসার এস এম শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও বাঁশখালী উপজেলার ১০৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে সনদ ও পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। আজকের অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, স্কুলশিক্ষার্থী, গবেষক, গবেষণা ফেলো, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো