|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
৩৬২ পঠিত
পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

আদালতে জামিন নিতে আসা চিত্রনায়িকা পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের মারধর, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেছেন, তিনি ঘটনাগুলো দেখেননি। তবে এমন কিছু ঘটে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পরীমনি। শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন পরীমনির সঙ্গে কালো পোশাক পরা ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন।

বিচারপ্রার্থীর মাথায় আঘাতের অভিযোগ

আদালতের সামনে পরীমনির দেহরক্ষীর আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করেন মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থী। তাঁর বড় ভাই প্রথম আলোকে জানান, পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলায় তাঁরা আদালতে এসেছিলেন। দুই ভাই আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা তাঁদের ধাক্কা দেন এবং সুজনের মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা থেকে রক্ত বের হতে থাকে।

সুজনের বড় ভাই বলেন, ‘আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পরীমনির দুজন দেহরক্ষী এসে ধাক্কা দেয় আর মাথায় আঘাত করে।’

ঘটনার পর উপস্থিত কয়েকজন তাঁদের পাশের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আদালতের সামনে পরীমনির দেহরক্ষীর আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ করেন মো. সুজন নামের এক বিচারপ্রার্থী

আদালতে ঢুকতে বাধা, সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা

আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িতে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন পরীমনি। কিছুক্ষণ গাড়িতে অবস্থানের পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে নামেন তিনি।

পরে লিফটে উঠে প্রথমে ভুল আদালতকক্ষে ঢোকেন পরীমনি। তাঁর আইনজীবীর সহকারী সেখানে গিয়ে অন্য আদালতে শুনানি হওয়ার কথা জানালে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। এরপর আরেকটি আদালতকক্ষে গিয়ে সেখানেও শুনানি হবে না জানতে পেরে একতলা নিচে সংশ্লিষ্ট আদালতে যান। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছে পেছনের বেঞ্চে বসেন তিনি।

এ সময় পরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও কয়েকজন আইনজীবীকে আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা এর প্রতিবাদ জানান। আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলের মধ্যে জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

আদালতের পথে পরীমনি

পরীমনির আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল আগের দিন অসুস্থ থাকায় হাজির হতে পারেননি। তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইছেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

শুনানির পর আদালত ভবনের নিচেও কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর ও তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে। পরে সাংবাদিকেরা মুঠোফোন ফেরত পান।

গাড়িতে ওঠার আগে পরীমনিও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়।’ মুঠোফোন হাতে থাকা ওই ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ভিডিও করছিলেন। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়েন।

যা বললেন পরীমনির আইনজীবী

এসব অভিযোগের বিষয়ে নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, ‘আমি এ ধরনের ঘটনা দেখিনি। যদি সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমি সেখানে ছিলাম না, তাই সরেজমিনে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারছি না।’

দীর্ঘদিন আদালতে আসা–যাওয়ার কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, এদিন অনেক ভিড় হয়েছিল। সেই ভিড়ের মধ্যে কী ঘটেছে, তা তিনি নিজে দেখেননি।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, ‘পুলিশ যদি ঠিকমতো নিরাপত্তা দিত, তাহলে আপনাদের সঙ্গে এবং আমার আসামির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ঘটত না। পুলিশের আরও বেশি নিরাপত্তা দেওয়া উচিত ছিল।’

পরোয়ানার পরদিন জামিন

নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গতকাল বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। পরীমনি উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

২০২২ সালের ৬ জুলাই মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনি তাঁকে গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন এবং ভয়ভীতি দেখান। অন্যদিকে ওই ঘটনায় এর আগেই নাসিরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন পরীমনি।

নাসিরের মামলায় গত বছরের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সেদিনও অনুপস্থিত থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

সূত্র: প্রথম আলো