|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পুলিশের ৭ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন বাধ্যতামূলক অবসরে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
২৮২ পঠিত
পুলিশের ৭ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত, একজন বাধ্যতামূলক অবসরে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ সাত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা...

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ সাত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্য একজনকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসরে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

চাকরিচ্যুত অন্য কর্মকর্তারা হলেন রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ডিএমপির সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা তাসকিন।

অন্যদিকে, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতদিন তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।

ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।

এ ঘটনায় পুলিশ সদরদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। এমনকি জবাব দেওয়ার জন্য সময়ও চাননি।

পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চায় সরকার।

গত ১ অক্টোবর পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করে। বিভাগীয় মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও পিএসসির মতামত পর্যালোচনা শেষে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স