|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় কারা আছেন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
৩২৫ পঠিত
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় কারা আছেন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সন্দেহভাজন প্রায় ১০০ ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এনবিআরের পক্ষে সাধারণত এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ তালিকায় আওয়ামী লীগের আমলের কয়েকজন সংসদ সদস্য (এমপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা আছেন। এ ছাড়া পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিও আছেন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গত কয়েক দিনে এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এবং তথ্য জানতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁরা এখনো এনবিআরের চিঠি পাননি।

সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এবার দেখা যাক, কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় আছে।

এনবিআরের তালিকায় দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের মালিক, তাঁদের পরিবারের সদস্যের নাম আছে। তালিকায় রয়েছে মন্ডল, এনভয়, গিভেন্সি, স্ট্যান্ডার্ড, নিপা, ওয়েল ও টুসুকা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম।

তালিকায় তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সুতা, কাপড়ের রং, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য, প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি এসব ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তালিকায় মন্ডল গ্রুপের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মন্ডল ইন্টিমেটস, কটন ফিল্ড (বিডি), কটন ক্লাব (বিডি), কটন ক্লোদিং (বিডি), মন্ডল ফেব্রিকস, ট্রপিক্যাল নিটেক্স, মার্ক সোয়েটার, মন্ডল স্পিনিং মিলস, মন্ডল ফার্মিং অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, আলিম নিট, মন্ডল সিকিউরিটিজ, অ্যাপোলো ফ্যাশন, ট্রিমস ইন্টারন্যাশনাল, ইকো ইন্টিমেটস, অ্যাপোলো নিটওয়্যার, মন্ডল নিট কম্পোজিট, মন্ডল নিটওয়্যারস ও মন্ডল ইয়ার্ন ডাইং।

এ ছাড়া পানামা অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, জিগজ্যাগ স্টুডিও, মন্ডল অ্যান্ড কোম্পানি, মনটেক্স ফেব্রিকসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। মন্ডল গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় রয়েছেন আবদুল আলিম মন্ডল, তারিন তাসলিমা, মো. জুবায়ের মন্ডল, সুলতানা খাতুন, মাসুদা খাতুন, আবদুল মান্নান মন্ডল, মোমেনা খাতুন, আবদুল মোমিন মন্ডল, মাহমুদুল হাসান, জান্নাতুল ফেরদৌস ও আবদুল মজিদ মন্ডল।

এনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তালিকায় রয়েছে। এগুলো হলো এনভয় গার্মেন্টস, এনভয় প্যাকেজেস, এনভয় ডিজাইন, এনভয় ফ্যাশনস ও এনভয় টেকনোলজি। এই গ্রুপ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় আছে আবদুস সালাম মুর্শেদী (সাবেক এমপি), রাশিদা আহমেদ, শারমিন সালাম, তানভীর আহমেদ ও শেহরিন সালাম। তবে আবদুস সালাম মুর্শেদির পরিবার ছাড়া বাকিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র।

গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে তালিকায়। এগুলো হলো গিভেন্সি গার্মেন্টস, গিভেন্সি স্পিনিং মিলস, গিভেন্সি গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, গিভেন্সি ইয়ার্ন ডাইং এবং গিভেন্স ফুডস অ্যান্ড অ্যাসেনশিয়াল। তালিকায় এই গ্রুপের আবদুল জাহিদ মুকুল, মাসুমা খাতুন, মাহমুদা খাতুন ও আবদুল হাদি আছেন।

স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের নাম রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়া দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগের নামও রয়েছে। এ গ্রুপের হোসনা আরা বেগম, মো. আতিউর রহমান, মাহমুদা বেগম, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তাসমিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ, ফারিয়া রহমান, ফাহিম মোশাররফ ও হাসিব মোশাররফ আছেন।

নিপা গ্রুপের তালিকায় রয়েছে নিপা নিটওয়্যার কোম্পানি, সেলিনা অ্যাপারেলস ও নিপা ফ্যাশন ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন সঞ্জীব চৌধুরী, মো. খসরু চৌধুরী (সাবেক এমপি), এম মুনিরুল ইসলাম ও মো. টিপু সুলতান।

ওয়েল গ্রুপের তালিকায় রয়েছে ওয়েল অ্যাকসেসরিজ, ওয়েল ফ্যাশন ও ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি। এ ছাড়া ব্যক্তি হিসেবে নাসরিন আখতারের নাম রয়েছে।

তুসুকা গ্রুপের তালিকায় রয়েছে তুসুকা প্যাকেজিং, তুসুকা স্টিচেস, তুসুকা অ্যাপারেলস, তুসুকা ফ্যাশনস, তুসুকা ওয়াশিং, তুসুকা প্রসেসিং, তুসুকা ডেনিম, তুসুকা জিনস ও তুসুকা ট্রাউজার্স। ব্যক্তি হিসেবে রয়েছেন ফিরোজ আলম, মো. রাফায়েত উল্লাহ খান, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. ইকবাল কবির, ফয়জুর রহমান (সাবেক এমপি), আরশাদ জামাল, একরামুল হক, মো. আতিউজ্জামান, মো. আতিউজ্জামান।

তুসুকা গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তা অবাস্তব। আমাদের কারখানাগুলোতে ২০-২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। একদিন উৎপাদন না হলে এক থেকে দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়। ফলে নিজেদের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করার কোনো কারণ সুযোগই নেই।’ তিনি জানান, তুসুকা গ্রুপের চার উদ্যোক্তার একজন ফয়জুর রহমান বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন। বাকি তিনজন উদ্যোক্তা রাজনীতির সঙ্গে কখনই যুক্ত হননি। তাহলে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এতে বাংলাদেশের একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

এ ছাড়া তালিকায় এস এম আবদুল মান্নান (বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি), ফরিদা মান্নান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা (সাবেক এমপি), ফরিদা ইলিয়াস, আবদুস সালাম, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ তারিকুল ইসলাম, মো. আসিফ হাসান, জান্নাতুল ইসলাম, আফরোজা বেগম, নাসরিন আফরোজ, আখতারুন্নেসা ও জিনাত ইসলামের নাম রয়েছে।

এনবিআরের আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করার তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের জামাই আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে। আর মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়াও ক্রিপ্টো কারেন্সি দিয়েও লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

সূত্র: প্রথম আলো