|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা জরুরি: কামাল হোসেন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
২৫১ পঠিত
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা জরুরি: কামাল হোসেন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো ধরনের বৈষম...
মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো ধরনের বৈষম্য চলতে দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সংবিধান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ৭২-এর সংবিধানের মূলনীতি’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বামপন্থি রাজনীতির সমর্থক বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি। ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সানজিদ রহমান শুভ। লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান জাতির দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল। ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক। এই মূলনীতির ভিত্তিতে সবাইকে মিলে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে। এখন জাতিকে আর বিভক্ত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুব্রত চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য থেকে কোনোভাবেই সরে যাওয়া যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে বিরোধী দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে এবং ছাত্রলীগকে ফিরিয়ে আনতে চায়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ‘বাংলাদেশকে রিসেট’ করার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের ইতিহাসকে বাতিল করার কথা বলা হয়েছিল। ওই সময়ে দেশে মবতন্ত্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, যার প্রভাব এখনো মানুষকে ভোগাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সুব্রত চৌধুরী বলেন, মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বিএনপি আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো ছাড়া বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষণার আলোকে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এ জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। খোকন বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ আরও নমনীয় করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও বিএনপি চিন্তাভাবনা করছে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এমন একটি ব্যবস্থা চায় বিএনপি, যা সর্বজনীন এবং দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে হওয়া উচিত নয়। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ও সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাতে সংশোধনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যেই বিএনপি বিষয়গুলো বিবেচনা করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ হচ্ছে জনগণের অধিকার, মানবাধিকার ও সুশাসনের রক্ষাকবচ। দেশে আইনের শাসন কার্যকর থাকলে ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটতে পারত না।  কোন সরকারের আমলে লুটপাট হয়েছে, সেটি বড় কথা নয়; যারা ব্যাংক লুট করে, তারা বিভিন্ন সরকারের সময়েই সক্রিয় থাকে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খোকন বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে। সংবিধানে শক্তিশালী বিচারব্যবস্থার কথা বলা থাকলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, আইনজীবী সারা হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স