|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনেই ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
২৯৭ পঠিত
মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনেই ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স।  মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দ...

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক মাস আগেই সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সমালোচনা করছে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটরা। সেই সমালোচনার সুযোগ বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে আমরা বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। কয়েক মাস আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করা হবে। তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তা করব।’

তবে কীভাবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সহায়তা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা নিয়ে দ্বিদলীয় সমর্থন থাকলেও গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি বদলেছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে। জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ শতাংশ ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালে একই প্রশ্নে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনেই ট্রাম্পের এমন ঘোষণা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এখন ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্যও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

এদিকে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতা গাদি আইজেনকট ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, কৌশলগত সম্পর্কের কাঠামোয় পরিবর্তনের বিষয়টি ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারছেন। এটি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং দেশের জন্য প্রকৃত ঝুঁকির বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ২০২০ সালে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত আইন পাস করেছিল। তবে অর্থ ছাড়ের জন্য প্রতিবছর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা কমে আসতে পারে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বদলে গেছে এবং আগের মতো বিপুল পরিমাণ সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে ইসরায়েলকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটসংক্রান্ত বিলে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে কয়েক ডজন বেসরকারি সংস্থা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে এটিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত চলার মধ্যেই ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স