|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, ৭ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
১৭৬ পঠিত
যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন, ৭ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বগুড়ার শেরপুরে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী গৃহবধূ। এজাহার দায়েরের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা রুজু হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের সঙ্গে দেন...

বগুড়ার শেরপুরে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী গৃহবধূ। এজাহার দায়েরের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা রুজু হয়নি। উল্টো অভিযুক্তদের সঙ্গে দেনদরবার করে তদন্ত কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া এলাকায়। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম মর্জিনা খাতুন (৩২)। এ ঘটনায় ২৫ অক্টোবর রোববার স্বামী রেজাউল করিমকে প্রধান অভিযুক্ত করে সাতজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন তিনি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে হাপুনিয়া গ্রামের রেজাউল করিমের সঙ্গে মর্জিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। রেজাউল পেশায় ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসের চালক। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য মর্জিনাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন তিনি। একপর্যায়ে একটি মাইক্রোবাস কেনার জন্য স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামীসহ অন্য অভিযুক্তরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর সকালে অভিযুক্তরা মর্জিনার বসতবাড়িতে গিয়ে আবারও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় স্বামী রেজাউল করিম লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য অভিযুক্তরাও তাকে কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন মর্জিনা।

একপর্যায়ে মর্জিনা মুঠোফোনে তার ভাই রানা বাবুকে নির্যাতনের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ভাই ও মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দেন মর্জিনা। তবে সাত দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা রুজু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

মর্জিনার অভিযোগ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত অভিযুক্তদের সঙ্গে দেনদরবার করছেন। তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছেন তিনি।

মর্জিনা বলেন, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামী ও তার স্বজনদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এরপর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও যদি আইনের আশ্রয় না পাই, তাহলে কোথায় গিয়ে বিচার চাইব।

তবে মর্জিনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদত। তার দাবি, অভিযোগটি তদন্ত করতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। মামলা নেওয়া হবে। তবে ঢাকায় কাজ থাকায় কয়েক দিন ধরে তিনি বাইরে রয়েছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনায় অবশ্যই মামলা হবে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

সূত্র: কালবেলা