|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

রোগীর পাতে খাবার কমলো ৬৮ শতাংশ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
১৮৬ পঠিত
রোগীর পাতে খাবার কমলো ৬৮ শতাংশ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, বেড়েছে ঠিকাদারদের দরও। কিন্তু বাড়েনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের জন্য সরকারের দৈনিক বরাদ্দ। ফলে রোগীপ্রতি মাত্র ১৭৫ টাকার বাজেটে খাবার সরবরাহের হিসাব মেলাতে গিয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাদ্যতালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে। কোথাও কলার...
বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, বেড়েছে ঠিকাদারদের দরও। কিন্তু বাড়েনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের জন্য সরকারের দৈনিক বরাদ্দ। ফলে রোগীপ্রতি মাত্র ১৭৫ টাকার বাজেটে খাবার সরবরাহের হিসাব মেলাতে গিয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাদ্যতালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে। কোথাও কলার বরাদ্দ অর্ধেক, কোথাও সবজির পরিমাণ কমেছে ৬১ শতাংশের বেশি। পেঁপের বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। এমনকি সকালের নাস্তা থেকে বাদ পড়েছে চিনিও। চাল, ডাল, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য উপাদানের পরিমাণও কমানো হয়েছে। এতে চিকিৎসাধীন রোগীদের দৈনিক খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ঘাটতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কালবেলা প্রতিবেদকের হাতে আসা নথি বিশ্লেষণে ২০২৪-২৫ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত অনুমোদিত খাদ্য সরবরাহের দরপত্র তালিকা তুলনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।  নথি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রোগীপ্রতি দৈনিক পথ্য বাবদ সরকারি বরাদ্দ ছিল ১৭৫ টাকা। অর্থাৎ তিন অর্থবছরেও বরাদ্দের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ এ সময়ে অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের একক দর বেড়েছে। বাড়তি দরের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে নতুন খাদ্যতালিকায় রোগীদের জন্য খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে। দরপত্রের তথ্য বলছে, সকালের নাস্তায় মুরগির ডিম আগের মতো একটি রাখা হলেও এর একক দর ১২ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ টাকা হয়েছে, যা ৯১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি। পাকা কলার ক্ষেত্রে দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি কলার দাম ৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৬ টাকা হলেও রোগীদের দৈনিক বরাদ্দ দুটি থেকে কমিয়ে একটি করা হয়েছে। এতে কলার দর বেড়েছে ১৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, আর বরাদ্দ কমেছে ৫০ শতাংশ। পাউরুটির কেজিপ্রতি দর ২৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপরীতে রোগীপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ৮০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৭০ গ্রাম করা হয়েছে, যা ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হ্রাস। আগের তালিকায় ১০ গ্রাম চিনি থাকলেও নতুন তালিকায় তা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। দুপুর ও রাতের খাবারেও কমেছে খাদ্য উপাদানের পরিমাণ। সিদ্ধ মাঝারি চালের কেজিপ্রতি দর ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা হয়েছে। একই সময়ে রোগীপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ৪০০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩৪০ দশমিক ৩ গ্রাম করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৫৯ দশমিক ৭ গ্রাম বা ১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ চাল কমেছে। মসুর ডালের দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৮ টাকা হয়েছে। আর বরাদ্দ ২৫ গ্রাম থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ গ্রাম করা হয়েছে। এতে ডালের দর বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বিপরীতে বরাদ্দ কমেছে ৪৪ শতাংশ। খাসির মাংসের কেজিপ্রতি দর ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৭০ টাকা হয়েছে। রোগীদের দৈনিক বরাদ্দ ৭০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৬০ গ্রাম করা হয়েছে, যা ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ হ্রাস। রুই মাছের দর ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪৯ টাকা ৭ পয়সা হয়েছে। বরাদ্দ ২৩৩ দশমিক ৩৩ গ্রাম থেকে কমিয়ে ২০১ গ্রাম করা হয়েছে, যা ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ কম। সিলভার কার্প ও গ্রাসকার্পের কেজিপ্রতি দর ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯১ টাকা ৩৭ পয়সা হয়েছে। এসব মাছের দৈনিক বরাদ্দ ২৮০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ২৪০ দশমিক ৯ গ্রাম করা হয়েছে, যা প্রায় ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাস। পাঙাশ মাছের দাম ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫৬ টাকা ৭ পয়সা হলেও বরাদ্দ ৩১৮ দশমিক ১৮ গ্রাম থেকে কমিয়ে ২৭৩ দশমিক ৮ গ্রাম করা হয়েছে। এতে পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সবজির বরাদ্দ কমানোর চিত্র আরও উদ্বেগজনক। পটল, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচা কলাসহ সাধারণ সবজির কেজিপ্রতি দর ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১১ টাকা ৩৫ পয়সা হয়েছে। অথচ রোগীপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ ৪৫৯ গ্রাম থেকে কমিয়ে মাত্র ১৭৮ দশমিক ৫ গ্রাম করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৮০ দশমিক ৫ গ্রাম বা ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ সবজি কমেছে। পেঁপের কেজিপ্রতি দর ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা ৭৮ পয়সা হলেও বরাদ্দ ১৩১ দশমিক ১৪ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৪১ দশমিক ২ গ্রাম করা হয়েছে। এতে কমেছে ৬৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আলুর দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮২ টাকা ৭১ পয়সা হলেও বরাদ্দ ৫৭ দশমিক ২৫ গ্রাম থেকে কমিয়ে ২৫ গ্রাম করা হয়েছে, যা ৫৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ হ্রাস। শিম ও মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কাটছাঁট হয়েছে। এসব খাদ্য উপাদানের কেজিপ্রতি দর ৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৬৮ পয়সা হয়েছে। বিপরীতে রোগীদের দৈনিক বরাদ্দ ৯১৮ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩৫২ দশমিক ১ গ্রাম করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে। রান্নার উপকরণেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দর ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭৫ টাকা হয়েছে, যা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ রোগীদের দৈনিক বরাদ্দ ১২ গ্রাম থেকে কমিয়ে ১০ গ্রাম করা হয়েছে, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ হ্রাস। লবণের কেজিপ্রতি দরও ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ২২ পয়সা হয়েছে, যা ৩২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি। দুই অর্থবছরের তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পাকা কলার, ১৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এরপর ডিমের দাম ৯১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মসুর ডালের দাম ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রোগীদের বরাদ্দ কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পেঁপে, সাধারণ সবজি, শিম ও মিষ্টি কুমড়া এবং আলুর মতো খাদ্য উপাদানে। পেঁপের বরাদ্দ কমেছে ৬৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সাধারণ সবজির ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ, শিম ও মিষ্টি কুমড়ার ৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং আলুর ৫৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এছাড়া ডিমের দাম ১১ টাকা, কলার ১০ টাকা, চালের ৬ টাকা, ডালের ৫৮ টাকা, খাসির মাংসের ১৭০ টাকা, রুই মাছের ৪৯ টাকা ৭ পয়সা এবং সিলভার ও গ্রাস কার্পের দাম ৪১ টাকা ৩৭ পয়সা বেড়েছে। পাউরুটি, আলু, সাধারণ সবজি ও সয়াবিন তেলের দরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজি রোগীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যতালিকায় এসব উপাদানের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমে গেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদিও রোগীর ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের মতে, কয়েক বছর আগের নির্ধারিত ১৭৫ টাকার দৈনিক পথ্য বাজেট দিয়ে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোগীদের পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা কঠিন। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকায় খাবারের পরিমাণ কমানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা। তাঁদের দাবি, রোগীদের পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সরকারি পর্যায়ে দৈনিক পথ্য বাজেট পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে খাদ্যতালিকায় পরিমাণ কমানোর বিষয়টির পাশাপাশি দরপত্রের একক দর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং খাদ্যতালিকার বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দর নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েলনেস ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ওয়াইজ খান বলেন, ‘আমি এসব বিষয় দেখি না। আপনি দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরিটির সঙ্গে কথা বলেন।’ তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াইজ খান হাসপাতালের সাবেক সুপার ডা. শায়লা শারমিনের নিকটাত্মীয়। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুপারিশে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও তিনি সর্বনিম্ন দরদাতাকে পাশ কাটিয়ে টেন্ডার পেয়েছেন। এ বিষয়ে এবং ডা. শায়লা শারমিনের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াইজ খান বলেন, ‘দেখেন, আপনি শুধু সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন দিয়েছেন বলে কথা বলছি। আমি এসব বিষয় ডিল করি না। আপনি অথরিটির সঙ্গে কথা বলেন।’ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. মো. নাসিম আখতার কালবেলাকে বলেন, ‘হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহসংক্রান্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া ও চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। এ-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ ও দাপ্তরিক কিছু বিষয় গোপনীয় থাকায় টেন্ডারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া বর্তমান খাদ্য সরবরাহের টেন্ডার অনুমোদন ও চুক্তি সম্পাদনের সময় আমি মেহেরপুর জেলায় কর্মরত ছিলাম না। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খাদ্য সরবরাহের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করেছি। তালিকায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্য তুলনামূলক বেশি দেখার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারীকে ডেকে রোগীদের খাবারের মান ও নির্ধারিত পরিমাণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছি। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বাজারমূল্য বা সরবরাহমূল্য যাই হোক না কেন, রোগীদের খাবারের পরিমাণ ও মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে, পূর্বের নির্ধারিত পরিমাণ ও মান অনুযায়ী রোগীদের খাবার সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না।’ মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আবু সাঈদ কালবেলাকে বলেন, ‘মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সরাসরি প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত নয়। হাসপাতালটির প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার), যিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) অধীন দাপ্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। আমার সরাসরি প্রশাসনিক আওতায় রয়েছে জেলার দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সাধারণত ১০০ শয্যার বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক তদারকি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়। সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল সুপার পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর কর্মকর্তা হওয়ায় জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও হাসপাতাল সুপারকে সরাসরি প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। তবে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকি। হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ, টেন্ডার প্রক্রিয়া কিংবা রোগীদের খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনব এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করব।’ উল্লেখ্য, টেন্ডার ওপেনিং রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহের কাজ পেতে তিনটি প্রতিষ্ঠান দর প্রস্তাব করে। এর মধ্যে আদিল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ৫৯২ টাকা দর প্রস্তাব করে। নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির দর ছিল ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দরদাতা বা এল-১ (L-1) হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার ওয়েলনেস ট্রেডিং দর প্রস্তাব করে ১ কোটি ৯৬ লাখ ১৩ হাজার ৪১৩ টাকা ৮৯ পয়সা। প্রাক্কলিত বাজেটের তুলনায় তাদের দর ছিল ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। তৃতীয় দরদাতা মাস্টার মাইন্ড ইনকর্পোরেশন প্রস্তাব করে ১ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৪ টাকা ৬৫ পয়সা, যা প্রাক্কলিত বাজেটের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কম। তবে সর্বনিম্ন দরদাতা আদিল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা ওয়েলনেস ট্রেডিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের পক্ষে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাত হাসান এবং ওয়েলনেস ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ওয়ায়েস খানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অর্থমূল্য ১ কোটি ৯৬ লাখ ১৩ হাজার ৪১৩ টাকা ৮৯ পয়সা। হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহ শুধু একটি প্রশাসনিক বরাদ্দের বিষয় নয়, এটি চিকিৎসাসেবারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দরপত্রে খাদ্যপণ্যের একক দর নির্ধারণের যৌক্তিকতা, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার কারণ এবং চুক্তি অনুযায়ী বাস্তবে রোগীদের কী পরিমাণ ও মানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোগীপ্রতি দৈনিক ১৭৫ টাকার পথ্য বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণের দাবি উঠেছে।

সূত্র: কালবেলা