|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জিপিএ-৫, সাকিরুলের স্বপ্ন এখন বিশ্ববিদ্যালয়

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
১৬৩ পঠিত
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জিপিএ-৫, সাকিরুলের স্বপ্ন এখন বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা প্রতিকূলতা জয় করে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের সাকিরুল ইসলাম। এবার তার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। আর সেই স্বপ্ন পূরণে সাকিরুলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজ...

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও নানা প্রতিকূলতা জয় করে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের সাকিরুল ইসলাম। এবার তার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা। আর সেই স্বপ্ন পূরণে সাকিরুলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাকিরুলকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান ইউএনও। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তার হাতে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি।

সাকিরুল ইসলাম বাউফল সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ প্যাদা বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবা মাওলানা মো. মোশাররফ হোসাইন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তার মা একজন গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাকিরুল বড়। তিনি বাউফলের ছালেহিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পাওয়ার পর থেকেই আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেন সাকিরুল। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান। তবে পথটা সহজ ছিল না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি অসুস্থতার কারণে একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এমনকি পরীক্ষার সময়ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবু হাল ছাড়েননি। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত ফল।

সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত সাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। পরীক্ষার সময় একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল, হয়তো পরীক্ষা দিতে পারব না। কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল জিপিএ-৫ পাওয়া। আল্লাহর রহমতে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ইউএনও স্যার আমাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা সহায়তা করেছেন। আমি তার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। এখন আমার একটাই লক্ষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা।’

ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন, ‘সাকিরুল বাউফলের গর্ব। সে প্রমাণ করেছে, মনোবল দৃঢ় থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। তার চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যে স্বপ্ন দেখেছি, তা পূরণে প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে। আজ প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করা হবে। আমি চাই, সাকিরুল জীবনে আরও বড় হোক।’

সূত্র: কালবেলা