|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

‘সুপার সাব’ ইব্রাহিমের গোলেই বাংলাদেশের বাজিমাত

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
২২৩ পঠিত
‘সুপার সাব’ ইব্রাহিমের গোলেই বাংলাদেশের বাজিমাত
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ম্যাচের আগে চোটে ছিটকে গেলেন অধিনায়ক তপু বর্মন। তার জায়গায় রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণভাগেও নতুন পরীক্ষা চালালেন কোচ টমাস ডুলি। তাতে প্রথমার্ধে ভুটানকে চেপে ধরেও গোলের দেখা পেল না বাংলাদেশ। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলো, নষ্টও হলো। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের অপেক্ষা যখন দীর্ঘ হচ্ছিল, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নাম...

ম্যাচের আগে চোটে ছিটকে গেলেন অধিনায়ক তপু বর্মন। তার জায়গায় রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণভাগেও নতুন পরীক্ষা চালালেন কোচ টমাস ডুলি। তাতে প্রথমার্ধে ভুটানকে চেপে ধরেও গোলের দেখা পেল না বাংলাদেশ। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলো, নষ্টও হলো। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের অপেক্ষা যখন দীর্ঘ হচ্ছিল, তখন বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তাঁরই পা থেকে এল ম্যাচের একমাত্র গোল। জাতীয় দলের হয়ে চার বছর পর গোল করে ইব্রাহিম শুধু নিজের অপেক্ষারই অবসান ঘটাননি, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন জয়ও। ভুটানকে ১–০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে স্বাগতিকেরা।

ইংল্যান্ডপ্রবাসী হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদকে এই ম্যাচে পাওয়া যাবে না, সেটি আগেই জানা ছিল। হামজাকে ছাড়া পরীক্ষায় কেমন করে বাংলাদেশ তা দেখার ছিল। জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে নতুন ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওয়ার্ম-আপের সময় পেশির চোটে মাঠে নামতে পারেননি অধিনায়ক তপু। তার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পান জামাল ভূঁইয়া। আর কোচ ডুলির একাদশে ছিল আরও একটি চমক। রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলান আক্রমণভাগের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে।

মাঠে অবশ্য শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। ভুটানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ করেছে স্বাগতিকেরা। সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কর্নার থেকে আসা বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেনি ভুটানের রক্ষণ। বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জোরালো শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গিয়েলৎশেন জাংপো।

১০ মিনিট পর রাকিব হোসেনের ক্রসে হেডের সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে নেওয়া তাঁর হেড অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে একবার পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেন ভুটানের অধিনায়ক চেনচো গিয়েলৎশেন। তার গতি থেকে একটি কর্নার আদায় করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ভুটান। ম্যাচের এই পর্যায়ে মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ভুটানের ওর্গেন ওয়াংচুককে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

২৪ মিনিটে বক্সের ভেতর ভুটানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে বল লাগলে হ্যান্ডবলের আবেদন করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। তবে পেনাল্টি দেননি রেফারি। বিরতির পাঁচ মিনিট আগে আবারও গোলের সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। রক্ষণ ভেদ করে আসা পাস ধরে গোলরক্ষকের সামনে একা হয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বনাথ। কিন্তু অসমান মাঠে বল লাফিয়ে ওঠায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তিনি। বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধে ৬৬ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও গোল পায়নি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ১৫ বার বল স্পর্শ করলেও শেষ পর্যন্ত বিরতিতে যেতে হয়েছে গোলশূন্য অবস্থায়।

বিরতির পর ফয়সিম আহমেদ ফাহিমের জায়গায় ফাহমিদুল ইসলামকে নামান ডুলি। বাঁ প্রান্ত থেকে ৬৫ মিনিটে তার নেওয়া বাঁকানো শট অল্পের জন্য দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এর আগেই ৬৪ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন এনেছিলেন বাংলাদেশ কোচ। জামালের বদলে সোহেল রানা জুনিয়র এবং বিশ্বনাথের জায়গায় মাঠে নামেন ইব্রাহিম। শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনই হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

৬৮ মিনিটে জায়ান আহমেদের বাড়ানো লং বল দূরের পোস্টে পেয়ে হেড করেন রাকিব। তাঁর হেড থেকে বল পান শমিত শোম। কানাডাপ্রবাসী এই ফুটবলারের ফিরতি হেড ভুটানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সামনে চলে আসে ইব্রাহিমের কাছে। বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলের জন্য প্রায় ৭০ মিনিট অপেক্ষার পর স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের শিবিরে।

ইব্রাহিমের জন্য গোলটি ছিল বিশেষ কিছু। ২০২২ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছিলেন তিনি। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেছে। ভুটানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র চার মিনিটেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন এই ফরোয়ার্ড।

গোল খেয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল ভুটান। তবে বাংলাদেশের রক্ষণে আর বিপদ তৈরি করতে পারেনি তারা। ৭৯ মিনিটে জায়ান আহমেদের জায়গায় রহমত মিয়া এবং কাজেম শাহর বদলে মোহাম্মদ হৃদয়কে নামান ডুলি। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমের গোলটিই হয়ে থাকে দুই দলের ব্যবধান। ম্যাচের আগে অধিনায়ককে হারানো, প্রথমার্ধের সুযোগ নষ্টের হতাশা—সব পেছনে ফেলে সাফের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ।

তবে এই জয় দিয়ে আড়াল করার সুযোগ নেই আক্রমণভাগের পুরোনো সমস্যাগুলো। ভুটানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এত আক্রমণ, এত সুযোগ তৈরি করেও মাত্র একটি গোল—সেটিও বদলি খেলোয়াড়ের সৌজন্যে। বিশ্বনাথকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর পরীক্ষাও সামনে তুলে ধরেছে স্বীকৃত গোলস্কোরারের অভাব। গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারলেও সেগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফুটবলারদের ঘাটতি স্পষ্ট। হামজা আসার পর ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সেই ছবি বদলাবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই গেল।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স