|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ভারতের রাজত্বে ভাগ বসাবে কে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩০ এএম
৪৩৬ পঠিত
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ভারতের রাজত্বে ভাগ বসাবে কে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে নতুনত্ব যেমন দেখা যাচ্ছে, আছে অব্যবস্থাপনাও। সাফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবার।

গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে পা রাখতেই টের পাওয়া গেল টুর্নামেন্টের আবহ। মাঠের চারপাশে চলছে ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড বসানোর কাজ। এক প্রান্তে গায়ক সঞ্জয়ের নাচ-গানের মহড়া মাত্র শেষ হয়েছে। মাঠও খেলার জন্য পুরোপুরি তৈরি। সব প্রস্তুতি শেষে আজ ঢাকায় পর্দা উঠছে ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের।

১৯৯৩ সালে পাকিস্তানে প্রথম আয়োজিত হওয়ার পর থেকে ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফের ৩৩ বছরের ইতিহাসে ১৪টি আসরের ৯টিতেই শিরোপা জিতেছে ভারত। মালদ্বীপ দুবার এবং বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান একবার করে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। তবে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান ২০১৮ থেকে সাফে না থাকায় টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা কমে যায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফেরাতে ২০২৩ আসরে অতিথি দল হিসেবে কুয়েত ও লেবাননকে আনা হলেও ভারতকে রোখা যায়নি। সর্বশেষ দুবারের চ্যাম্পিয়ন তারাই।

তবে ভারত আর আগের মতো সাফকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই ফিফা উইন্ডোতে মূল দলকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলাচ্ছে তারা। ঢাকায় পাঠিয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অবশ্য ২০০৯ সালেও দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ঢাকা থেকে ট্রফি নিয়ে গিয়েছিল পড়শি দেশটি।

ভারতের মূল দল না আসাটা অন্য দলগুলোর জন্য নিশ্চিতভাবেই একটা স্বস্তি, বিশেষ করে স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য। ভারতের মূল দলের অনুপস্থিতি এবং ফিফা নিষেধাজ্ঞায় নেপালের ছিটকে পড়ায় ২৩ বছর পর বাংলাদেশের সামনে শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে ঘরের মাঠে সাফ লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ ১০ জন প্রবাসী ফুটবলারকে নিয়ে গড়া দলটি যদি ২৩ বছরের খরা ঘোচাতে না পারে, সেটা হবে বড় ব্যর্থতাই। শুধু বাংলাদেশই নয়, ১৬ প্রবাসী নিয়ে গড়া শ্রীলঙ্কা দলও এবার সমীহ আদায় করছে।

কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলন

বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে পাকিস্তানও। তবে তাদের স্কোয়াডে সাতজন প্রবাসী থাকলেও ক্লাবের ছাড়পত্র না পাওয়ায় কয়েকজন ফুটবলার এখনো আসতে পারেননি। দল সেমিফাইনালে উঠলে তাঁরা যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন যেন প্রবাসীদের লড়াইয়ের এক মঞ্চেই পরিণত হতে যাচ্ছে।

আজ উদ্বোধনী দিন বেলা সাড়ে তিনটায় দর্শকদের জন্য বাড়তি পাওনা ভারত-পাকিস্তান লড়াই। দুই দেশের বৈরিতার মধ্যে ভারতের কোচ নওশাদ মুসা গতকাল এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, অবশ্যই তাঁরা পাকিস্তানের ফুটবলারদের সঙ্গে করমর্দন করবেন, প্রয়োজনে কোলাকুলিও করবেন ভারতের ফুটবলাররা। তাঁর কথা যেন শান্তির পতাকাই উড়িয়ে দিয়েছে।

মালদ্বীপ দল ঢাকা আসছে আজ রাতে। গতকাল টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন বাকি পাঁচ দল ঢাকার একটি হোটেলে প্রথাগত সংবাদ সম্মেলন করেছে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কোচ সরাসরি না বললেও ঘুরিয়ে স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশই এবার ফেবারিট। শ্রীলঙ্কার কুয়েতি কোচ আল মুতাইরি অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে রসিকতার ছলে একটা মনস্তাত্ত্বিক খেলাও খেলেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশ ম্যাচে ফারহান আলী ওয়াহিদের জার্সি যেন তাঁর দলের কোনো ফুটবলার না নেয়, নিলে তাঁকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হবে! লাগলে যেন হামজারটা নেয়। কারণ, ফারহানেরটা নাকি তিনি নিজেই নেবেন!

এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে নতুনত্ব যেমন দেখা যাচ্ছে, আছে অব্যবস্থাপনাও। সাফের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবার। তবে অসন্তোষ আছে ট্রফি উন্মোচন না হওয়া, বিমানবন্দর ও হোটেল–সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রচার-প্রচারণার অভাব নিয়ে। মাঠের রোমাঞ্চকর ফুটবলই এখন পারে এসব ঘাটতি ভুলিয়ে দিতে।

সূত্র: প্রথম আলো