ইয়েমেনে সামরিক সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির মধ্যে গত আগস্ট থেকে ১ হাজার ৬৭৭ মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট থেকে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মোট ১ হাজার ৬৭৭ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২০ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ছয় দিনে হতাহত হয়েছেন ৫৫৯ জন। এ সময় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৩ জন হতাহত হয়েছেন।
ডব্লিউএইচও জানায়, প্রতিবেদনভুক্ত সময়ে ইয়েমেনের তাইজ, লাহজ ও মারিব প্রদেশে লড়াই অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে, এডেন, আল-দালি ও শাবওয়াহ প্রদেশে তুলনামূলক কম হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
সংঘাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করেছে সংস্থাটি। গত ২৪ অক্টোবর তাইজ শহরে ৫৬টি ট্রমা ও জরুরি চিকিৎসা কিট পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪৬টি ছিল আঘাতজনিত রোগীর চিকিৎসার জন্য এবং ১০টি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য।
এ ছাড়া ৩টি হাসপাতাল ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য প্রায় ৩০ মেট্রিক টন চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে মারিব প্রদেশে স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানায়, সেখানে ৩১টি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দলের মধ্যে মাত্র ছয়টি এখনো কার্যক্রম চালাতে পারছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, গত ২০ অক্টোবর তাইজ শহরের আল-থাওরা জেনারেল হাসপাতালে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন সেনাসদস্য ও একজন রোগী আহত হন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অব্যাহত সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: কালবেলা