গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:২৩ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১০ এএম

স্ট্রোক দিবস: সামান্য সচেতনতাই কমাতে পারে মৃত্যুঝুঁকি

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
স্ট্রোক দিবস: সামান্য সচেতনতাই কমাতে পারে মৃত্যুঝুঁকি

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া- এমন লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা পেলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা এড়ানোর সম্ভাবনাও বাড়ে। 

স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবারের আন্তর্জাতিক প্রচারণার মূল বার্তা, ‘Every M1nute Counts’- অর্থাৎ প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য

প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থার (World Stroke Organization- WSO) উদ্যোগে ২০০৬ সালে দিবসটির সূচনা হয়। স্ট্রোকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, রোগটির ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে উৎসাহিত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

২০২৬ সালের প্রচারণায় স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সন্দেহ দেখা দিলেই জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার ‘Every M1nute Counts’ ও ‘#ActFAST’ বার্তার মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি চারজনের একজন জীবদ্দশায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

স্ট্রোক কী এবং কেন হয়?

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু কিংবা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন

স্ট্রোক সাধারণত আকস্মিকভাবে দেখা দেয়। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো-

মুখ বেঁকে যাওয়া: হাসতে বললে মুখের এক পাশ নিচের দিকে ঝুলে পড়তে পারে।

হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া: বিশেষ করে শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

কথা বলতে সমস্যা: কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া কিংবা কথা বলতে না পারা।

দৃষ্টির সমস্যা: হঠাৎ এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।

ভারসাম্য হারানো: হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে অসুবিধা বা শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারা।

এসব লক্ষণের যেকোনো একটি হঠাৎ দেখা দিলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বিবেচনা করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। লক্ষণ নিজে থেকে সেরে যায় কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।

দ্রুত চিকিৎসাই বাঁচাতে পারে জীবন

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। কখন লক্ষণ শুরু হয়েছে, তা মনে রাখা চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ানো বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। স্ট্রোকের ধরন নির্ণয় করে চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করেন।

দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধা দূর করার ওষুধ বা অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ থাকে। তবে কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে স্ট্রোকের ধরন, লক্ষণ শুরুর সময় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর।

প্রতিরোধে সচেতন জীবনযাপন জরুরি

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। যাদের হৃদ্‌রোগ বা অনিয়মিত হৃদ্‌স্পন্দনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও যথাযথ চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা উচিত।

স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, শারীরিক ব্যায়াম, কথা বলার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার থেরাপি এবং পরিবারের সহায়তা প্রয়োজন হয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সমর্থন ও সামাজিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের মূল বার্তা হলো- স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, ঝুঁকি কমাতে সচেতন থাকুন এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কারণ স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ; সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ একটি জীবন বাঁচাতে এবং একজন মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।