গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ২১ পরিবারের ভিটা দখল করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ২১ পরিবারের ভিটা দখল করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২১ পরিবারের প্রায় ১৫০ সদস্যের পৈতৃক বসতভিটার মাঝখান দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা, হামলা, হুমকি, মাছ ছিনতাই ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া তছলিমের বিরুদ্ধে। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় বাধা দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জমির অধিকার রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তালুকদার পরিবার। এদিকে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জাকারিয়ার দাবি, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় লোকজনের অর্থায়নে পুরোনো কাঁচা রাস্তা সংস্কার করেছেন তিনি। জমির দখল ও সড়ক নির্মাণ নিয়ে আদালতে দুটি মামলাও হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাস্টার জাফরুল হক তালুকদার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মুছাপুর ইউনিয়নে তাদের ২১ পরিবারের প্রায় ১৫০ সদস্য বংশপরম্পরায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। তবে প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিবেশী জাকারিয়া তছলিম তাদের বসতভিটার মাঝখান দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দেওয়ায় পরিবারের সদস্য গিয়াস উদ্দিন তালুকদারকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাফরুল হক।

তার অভিযোগ, অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তালুকদার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি-ধমকিও দেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের জমির ওপর দিয়ে আগে কোনো জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ছিল না। বাড়ির পশ্চিম পাশে সোলায়মান সড়ক এবং উত্তর পাশে চলাচলের আরেকটি রাস্তা রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতা ও থানা প্রশাসনকে জানিয়েও প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাবাজার ও গাছতলীর হাট-ঘাট এলাকায় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আনুমানিক আট লাখ টাকার মাছ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর ঠাকুর ও যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খানের মধ্যস্থতায় জরিমানা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

এ ছাড়া গত ২১ অক্টোবর মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানী মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় জাকারিয়া তছলিম ও তার অনুসারীদের দায়ী করে তালুকদার পরিবার। তাদের ভাষ্য, হামলায় গুরুতর আহত সাহাব উদ্দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ধোপারহাট মাছ বাজারে ব্যবসায়ীদের মারধর, অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও ব্যবসায় বাধা দেওয়া, দধি বিক্রেতা সাখাওয়াত ও এক সেলুন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং মাংস ব্যবসায়ী সোলেমানকে ব্যবসা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

পাশাপাশি কাজী আনসারীর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, তার ভাই রুবেলকে আঘাত এবং মুছাপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তোলেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা।

জাফরুল হক তালুকদার বলেন, বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি কিংবা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার রক্ষা ও আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পৈতৃক জমির দখল ও সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে সন্দ্বীপের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘কোর্ট ডায়েরি নং-৫৩/২০২৬’ এবং সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ‘অপর ৩৫/২০২৬’ নম্বরে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

গিয়াস উদ্দিনের করা মামলাগুলোতে তছলিম মিয়া ও ইদ্রিস আলমসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে করা মামলার আবেদনে নালিশি সম্পত্তি থেকে বাদীকে উচ্ছেদ, জমির আকার-প্রকৃতি পরিবর্তন, ওই জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ এবং বাদীর শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বাধা দেওয়া থেকে বিবাদীদের বিরত রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া তছলিম বলেন, ‘এই রাস্তার জন্য আমি নিজে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমার বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার একটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা তুলে সামাজিকভাবে কাঁচা রাস্তা সংস্কার করেছি।’

তার দাবি, এটি নতুন কোনো রাস্তা নয়। আগে থেকেই মানুষ এ পথে চলাচল করত। দুটি সংযোগ সড়কের মাঝখানে থাকা এই পথ দিয়ে একটি মসজিদ, মুছাপুর তালুকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় যাতায়াত করা হয়। রাস্তার কাছেই সরকারি খাল ও খাসজমি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জাকারিয়া তছলিম বলেন, ‘আমার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তা সংস্কার করতে বাধা দিচ্ছেন তারা। পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা চলাচলের পথ বলে জানিয়েছে। আমি কারও পৈতৃক সম্পত্তি দখল করতে চাইনি। জায়গাটি তাদের পৈতৃক ভিটা হলে প্রশাসন ও ভূমি অফিস রয়েছে, সেখানে তারা প্রতিকার চাইতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ করা হোক কিংবা কেটে ফেলা হোক, এতে আমার ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির বিষয় নেই। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্যই স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।