গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৩১ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

হ্যান্ডবলে এবার পর্তুগিজ কোচ, নতুন দিগন্তের স্বপ্নে বাংলাদেশ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
হ্যান্ডবলে এবার পর্তুগিজ কোচ, নতুন দিগন্তের স্বপ্নে বাংলাদেশ

সদ্য সমাপ্ত বেগম খালেদা জিয়া আইএএইচএফ নেশন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলের উন্নতির ছাপ ছিল সুস্পষ্ট। দীর্ঘদিন জাতীয় দল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাইরে থাকলেও ভারতের সাথে ফাইনালে লড়াইয়ের কমতি ছিলনা মেয়েদের মধ্যে। নারী হ্যান্ডবলের উন্নতির নেপথ্যের কারিগর ছিলেন একজন স্প্যানিশ কোচ। আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার উজ্জীবিত কোচিংয়ে অনেকটাই বদলে যাওয়া নারীদের পারফরমেন্স নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে বাংলাদেশের হ্যান্ডবলে।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল। দায়িত্ব শেষে ৩০ অক্টোবর আনা স্পেনে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হ্যান্ডবলে রেখে যাচ্ছে নতুন দিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়েছে এবার মিগুয়েলের ওপর। 

বাংলাদেশের হ্যান্ডবলের উন্নয়ন, জাতীয় দলের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পর্তুগিজ এই হ্যান্ডবল কোচ আগামী ১ নভেম্বর ডেনমার্কের কোপেনহেগেন থেকে বাংলাদেশে আসছেন।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের উদ্যোগে আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। মিগুয়েলের প্রথম এ্যাসাইনমেন্ট ২৩ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজাখস্তানের আলমাটিতে অনুষ্ঠিতব্য ২১তম এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপ। আসন্ন এই টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কোচ খেলোয়াড়দের কারিগরি দক্ষতা, কৌশলগত সক্ষমতা, শারীরিক প্রস্তুতি এবং দলীয় সমন্বয় উন্নয়নে আধুনিক প্রশিক্ষণপদ্ধতি প্রয়োগ করবেন। তার অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা জাতীয় নারী দলের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পুরুষ জাতীয় দল ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সাথে কাজ করবেন। 

ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেস পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ৭০টি আন্তর্জাতিক সিনিয়র ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। তার খেলোয়াড়ি জীবনে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক অর্জনের মধ্যে রয়েছে ১৯৯২ সালে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক, ১৯৯১ সালে পর্তুগালে লাতিন কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন এবং ১৯৯৫ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পর্তুগিজ সরকারের ক্রীড়া মেধা পদকেও ভূষিত হন।

ক্লাব পর্যায়েও তার রয়েছে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। তিনি পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে একাধিক মেয়াদে খেলেছেন। এছাড়া স্পেনের লিগা এসোবালে জুভেন্টাড দিপোর্তিভো আরাতে ও পর্তুগালের গিয়াসিও ক্লাব সুল, ভিটোরিয়া সেটুবাল এবং সেইসাল ফুটেবোল ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর ক্লাব অর্জনের মধ্যে রয়েছে পর্তুগিজ জাতীয় লিগ শিরোপা, তিনবার পর্তুগিজ কাপ, পর্তুগিজ সুপার কাপ এবং ইএইচএফ চ্যালেঞ্জ কাপ জয়। পাশাপাশি তিনি ইএইচএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইএইচএফ কাপ ও কাপ উইনার্স কাপ এর মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন।

বিশ্ব আসরে ইউরোপীয়ান দেশগুলোই হ্যান্ডবলে আধিপত্য দেখায়। আর সে কারনেই ইউরোপীয়ান কোচদের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে ফেডারেশন। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রায় ২০ জন কোচের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। যার মধ্যে অধিকাংশই ইউরোপীয়ান। তাদের মধ্যে থেকে মিগুয়েলের সাথে সমঝোতা হওয়ায় তাকেই বেছে নেয়া হয়েছে। 

আইএএচএফ নেশন্স ট্রফির সফল আয়োজনই বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রানীত করেছে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাল করার ক্ষেত্রে ম্যাচ খেলার বিকল্প নেই। আর ফেডারেশন সেই লক্ষ্যেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মত নারী দল এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিচ্ছে। যদিও যাত্রাটা খুবই কঠিন, কারন এশিয়ায় তো নয়ই, দক্ষিণ এশিয়াও বাংলাদেশ কখনই শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারেনি। 

সালাউদ্দিন আহমেদের স্বপ্নটা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি বিদেশী কোচের উপর নজড় দিয়েছেন। অতীতে আন্তর্জাতিক টুর্ণামেন্টগুলোতে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি, অথবা যেখানে যাওয়া হতো শুধুমাত্র অংশগ্রহনের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান ফেডারেশন তার থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া ঘরোয়া কোন টুর্ণামেন্টই আর আয়োজন করবে না ফেডারেশন। এমনকি আন্তর্জাতিক আসরেও লক্ষ্য থাকবে নিজেদের উন্নতির। 

বিদেশী কোচ আনার পাশাপাশি স্থানীয় কোচদেরও শক্তিশালী করতে চান সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রশিক্ষনের অভাব আমাদের সবসময়ই রয়েছে। এখানে আর্থিক বিষয়টিও জড়িত। সব মিলিয়ে বিদেশী কোচের অধীনে আমরা যেহেতু সাফল্যের ধারাবাহিকতা দেখতে পেয়েছি, এখন আর থেমে থাকা যাবেনা। এক্ষেত্রে স্থানীয় কোচদেরও উন্নত প্রশিক্ষনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। জাতীয় দল শক্তিশালী করতে বিদেশী ও দেশীয় কোচের সমন্বয় প্রয়োজন।’

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।