গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৯ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির মাঠে, ৩৫ বছর পর এমপি নির্বাচিত মির্জা ফয়সল

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির মাঠে, ৩৫ বছর পর এমপি নির্বাচিত মির্জা ফয়সল

ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে নাম লিখিয়েছিলেন রাজনীতিতে। এরপর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় তৃণমূলের রাজনীতিতে। পৌরসভার মেয়র থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি, পেরিয়েছেন রাজনৈতিক জীবনের নানা ধাপ।

অবশেষে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হলেন বিএনপি নেতা মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। অর্থাৎ ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির এই প্রার্থী।

মির্জা ফয়সল আমীন বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৬৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা ফাতেমা বেগম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

মির্জা ফয়সলের বাবা মির্জা রুহুল আমিন একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৬-৮৭ সালে ভূমি ও কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং সাবেক আইন ও ভূমিমন্ত্রী।

মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। তবে ব্যাংকিং পেশায় বেশি দিন থাকেননি। ১৯৯১ সালে চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে আসেন এবং বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন।

এরও আগে ১৯৭৯ সালে বাবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত তিনটি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ওই নির্বাচনে মির্জা ফয়সল পান ১৯ হাজার ১৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১২ হাজার ৭৪৪ ভোট। পরে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ২০২১ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের আগস্টে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন মির্জা ফয়সল। পরের বছর ২৪ মে অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

টানা আট বছর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফয়সল। ওই সম্মেলনে পয়গাম আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। চলতি বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে রংপুর বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হন। পরে ৯ জুন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় তাকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।

এ ছাড়া তিনি নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার ও অ্যাপোলো ইলেভেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতি ও টাউন ক্লাবের সঙ্গেও সাংগঠনিকভাবে যুক্ত রয়েছেন।

ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে তৃণমূলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মির্জা ফয়সল আমীন এবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।