সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, দেশের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদেশে কাজের সম্ভাবনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশের তরুণেরা প্রতারণার শিকার না হন কিংবা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাটোরের লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘স্টাডি অ্যাব্রড কনসালটেন্সি জিটি গ্রুপ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তবে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে কোনোভাবেই যেন আমাদের যুবসমাজ প্রতারণার শিকার না হয় কিংবা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
যুবসমাজকে দেশের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রেখে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কর্মসংস্থানের উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই তরুণদের জন্য ঝুঁকি বা দুর্ভোগের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় দক্ষিণ কোরিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেশের অর্থনীতি ও বেকারত্ব নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।
এ ক্ষেত্রে বিদেশগামী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
মতবিনিময় সভায় জিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান পার্ক জি ইয়ং, গ্রুপটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহমুদুল হাসান মামুন, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণেও উদ্যোগটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: কালবেলা