‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহার করে দেওয়া বক্তব্যের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে এ দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোরআনবিরোধী আইন ও হেবা আইন সংসদের মতো জায়গায় পাস করা হয়েছে। যারা এই দেশে ট্রান্সজেন্ডার প্রতিষ্ঠা করতে আসবে, তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করার চেয়েও বড় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার আসার পর দেশে কোনো গুম-খুন হয়নি বলা হলেও, সম্প্রতি একজন মেধাবী যুবক ও জাতির মেধাবী বিমানবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্রে দুই দিন হয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার বা কারণ সরকারের পক্ষ থেকে উদঘাটন করা হয়নি।
এ বিষয়ে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই খুনিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান সরকার বলেছিল নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পর সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের পরেই দেশের সরকার জনগণের ৭০ শতাংশ ভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে।
সরকারের এই ধরনের আচরণকে ‘গণভবনের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এরপর পেট্রোল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনগণ প্রতিবাদ করলেও সরকার তা আমলে নেয়নি, বরং জনগণের প্রতিবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। এভাবে একবার নয়, দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, এর তদন্তে আসামিকে ভারতে খুঁজে পাওয়া গেছে। সেই আসামিকে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে আরও ক্যাম্পেইন করতে হবে। কারণ, এটা ডেভেলপিং সোসাইটি, আমরা গ্লোবাল ভিলেজে বাস করছি। সবাই জানে অন্য রাষ্ট্রে কী ঘটছে, কী হচ্ছে। আমরা আর কোনো ট্যাবুতে থাকতে পারব না।’
তবে, এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রী লেখেন, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স