গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩১ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

কর্তার ‘ইগো’তে সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন সরকারি অফিস!

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
কর্তার ‘ইগো’তে সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন সরকারি অফিস!

চট্টগ্রামে এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অচল ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুনবাজার কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম। জরিমানা ছাড়া মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের শেষ দিনে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে কার্যালয়ের ব্যাংক বুথও। ফলে শত শত সেবাগ্রহীতা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। আটকে পড়ে যানবাহন, চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ষোলশহর সাবস্টেশন থেকে বিআরটিএ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দুপুর ২টার দিকে পুনরায় সংযোগ চালু করা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েন দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ।

বিআরটিএর উপপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল হকের অভিযোগ, পিডিবির ষোলশহরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল্লাহর ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দিন আগে ওই কর্মকর্তার পাঠানো একটি গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ সানাউল হকের।

তিনি জানান, কয়েক দিন আগে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল্লাহ একটি গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করতে বিআরটিএতে পাঠান। কিন্তু গাড়িটির আইবাস কোডসংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং প্রকল্পের গাড়ি কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার সরকারি বিধান থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ছিল প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিচ্ছা বা ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতা ছিল না।

সানাউল হকের দাবি, ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ব্যক্তিগত ইগোর কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অথচ বিআরটিএর মাসিক বিদ্যুৎ বিল এক লাখ টাকার বেশি হলেও বকেয়া ছিল ৮৩ হাজার টাকা। এ জন্য কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি তার বোধগম্য নয়।

তবে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। পরে দ্রুত বিল পরিশোধের বিষয়টি জানানো হলে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে পিডিবির ষোলশহরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, পুরোনো বিল পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়ার পরও সময়মতো বিল দেওয়া হয়নি। এ কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, জরিমানা ছাড়া মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের শেষ দিন হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে শত শত মানুষ কার্যালয়ে ভিড় করেন। সকাল ৯টায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা স্বাভাবিকভাবে কাজ চলে। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বন্ধ হয়ে যায় দাপ্তরিক কার্যক্রম। একই সঙ্গে অচল হয়ে পড়ে কার্যালয়ের ব্যাংক বুথের লেনদেন। ফলে অনেক গ্রাহক প্রয়োজনীয় টাকা জমা দিতে পারেননি। কেউ কেউ জরিমানা ছাড়া কাগজপত্র হালনাগাদের সুযোগ হারিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সেবাগ্রহীতা যানবাহনসহ কার্যালয়ের ভেতরে আটকে পড়েন। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পরে যারা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পেরেছিলেন, তাদের কাগজপত্র হালনাগাদ করতে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত কাজ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে একটি সরকারি কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কেন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।