গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৫৭ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মামলা নিল পুলিশ, ওসির ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মামলা নিল পুলিশ, ওসির ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে গিয়ে থানায় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মামলা নিয়েছে পুলিশ।

‘গোসল করে যাওয়ায় ধর্ষণের মামলা নিলেন না ওসি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই নববধূকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে এসে তার অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নথিভুক্ত করে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে বিয়ের মাত্র ১৬ থেকে ১৭ দিনের মাথায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার চাইতে বাকেরগঞ্জ থানায় যান ওই নববধূ। এ সময় তার অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো সাত বছরের কারাদণ্ডের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার তার সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাজারে নিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে ইমরান প্যাদা ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাকে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নববধূ। পরে সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে মামলা করতে বাকেরগঞ্জ থানায় যান তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওসি আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে বলা হয়, ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই এবং গোসল করার কারণে আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাকেই সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এ ছাড়া ওসি তার উদ্দেশে ‘শালির অর্ধেক ভাগ পায়’ বলে অশালীন মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আদিল হোসেন। তিনি বলেন, দুয়েকদিন আগে ওই নারী তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তারা ধর্ষণের কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে কিছুক্ষণ পর জানাবেন বলে তারা চলে যান।

বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা গ্রহণ না করার কোনো সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।