গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

গতির ঝড় তুলে শীর্ষে এমবাপ্পে

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
গতির ঝড় তুলে শীর্ষে এমবাপ্পে
মৌসুমের শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও এখন দুর্দান্ত সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগ। জোসে মরিনিওর অধীনে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দলের এই সাফল্যে বড় অবদান রাখছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাঠে নিজের অসাধারণ গতির কারণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন এমবাপ্পে। তার দ্রুতগতির দৌড় তাকে এমন সব জায়গায় পৌঁছে দেয়, যেখানে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পক্ষে পৌঁছানো কঠিন। বিশেষ করে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গতি কাজে লাগিয়ে সহজেই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলতে পারেন তিনি। প্রতি-আক্রমণে তাই রিয়ালের অন্যতম বড় অস্ত্র এই ফরাসি তারকা। পরিসংখ্যানও বলছে, গতির দিক থেকে চলতি মৌসুমে লা লিগার অন্য সব খেলোয়াড়কে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পে। শুধু স্পেনের শীর্ষ লিগেই নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দ্রুততম ফুটবলারদের তালিকাতেও রয়েছেন একেবারে সামনের সারিতে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৬.৩ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন ২৭ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড, লা লিগায় যা সর্বোচ্চ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে তার চেয়ে বেশি গতি তুলেছেন কেবল বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিস, যার রেকর্ড ঘণ্টায় ৩৬.৭ কিলোমিটার। তালিকায় ৩৬.৩ কিলোমিটার গতিতে এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন লিভারপুলের রোনাল্ড আরাউহো, ইন্টার মিলানের মার্কাস থুরাম ও ওসেরের নাউইরু আহামাদা। প্রায় ২৮ বছর বয়সে পৌঁছালেও এমবাপ্পে এখনো বিশ্বের দ্রুততম ফুটবলারদের একজন। তার খেলার অন্যতম প্রধান শক্তি এই গতি। চলতি মৌসুমে লা লিগায় ১০ ম্যাচ খেলেই ১১ গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের ২-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোলও রয়েছে তার। তবে এমবাপ্পেকে অন্য দ্রুতগতির ফুটবলারদের চেয়ে আলাদা করেছে শুধু সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়ানোর ক্ষমতা নয়। কখন গতি বাড়াতে হবে, কোন মুহূর্তে স্প্রিন্ট শুরু করতে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও তাকে ভয়ংকর করে তুলেছে। মরিনিওর কৌশলে রক্ষণভাগকে গুছিয়ে রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জুড বেলিংহাম, আর্দা গুলের ও বের্নার্দো সিলভার মতো ফুটবলারদের দৃষ্টিশক্তি ও কারিগরি দক্ষতা রিয়ালের সেই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঠিক সময়ে ফাঁকা জায়গায় বল পৌঁছে দিতে পারলে এমবাপ্পের গতিকে কাজে লাগানো আরও সহজ হয়। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে সতীর্থদের বাড়ানো নিখুঁত পাসের পেছনে ছুটতে পারলে তাকে থামানো যে কোনো ডিফেন্ডারের জন্যই কঠিন। বিশ্বের খুব কম রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরই রয়েছে এমবাপ্পের সঙ্গে গতির লড়াইয়ে জেতার সামর্থ্য। তবে নিজের অবস্থান ও দুর্দান্ত মুভমেন্টকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগালেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলার ধরনে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন এমবাপ্পে। ক্যারিয়ারের কোনো এক পর্যায়ে তার পায়ের গতি আগের মতো নাও থাকতে পারে। তখনও দলের জন্য কার্যকর থাকতে হলে নতুন দক্ষতা ও কৌশল যোগ করতে হবে খেলায়। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়েরা শারীরিক সক্ষমতা কমে এলেও নিজেদের খেলার ধরন বদলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন। সময়ের সঙ্গে এমবাপ্পে কীভাবে নিজের খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।