গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

২০১৫ সাল থেকে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
২০১৫ সাল থেকে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০১৫ থেকে প্রতি বছর পাসের হারে ছেলেদের পেছনে ফেলছেন ছাত্রীরা। ২০২৬ সালের ফলাফলেও ছেলেদের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি পাস করেছেন মেয়েরা। তবে জিপিএ-৫ অর্জনে এবার এগিয়ে রয়েছেন ছাত্ররা।

২০২৬ সালের ফলাফলে মেয়েদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্র। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রীদের মধ্যে পাস করেছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।

শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ২০১৫ সালে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ২৩ শতাংশ, ছাত্রদের ৬৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, ছেলেদের ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৪৩ ও ৬৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১৮ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, ছেলেদের ৬৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে মেয়েদের পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশে, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে পরীক্ষা না নিয়ে অটোপাস ও বিষয়ভিত্তিক ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে ওই বছরের ফলাফলের সঙ্গে অন্য বছরগুলোর সরাসরি তুলনা করা কঠিন। ২০২১ সালে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ছাত্রদের ৯৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০২২ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ছেলেদের ৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ছাত্রদের ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০২৫ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ছেলেদের ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৬ সালেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। 

তবে পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও এবার জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেরা মেয়েদের ছাড়িয়ে গেছেন। এ বছর ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বিপরীতে ছাত্রীদের মধ্যে এ সংখ্যা ১৯ হাজার ৭২১। অর্থাৎ সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনে ছেলেরা ৬৪২ জন এগিয়ে রয়েছেন। গত বছর অবশ্য জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে ছিলেন। 

২০২৫ সালে মোট ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ৩৭ হাজার ৪৪ জন এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন। ২০২৪ সালেও মেয়েরা জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে ছিলেন। ওই বছর ৮০ হাজার ৯৩৩ জন ছাত্রী এবং ৬৪ হাজার ৯৭৮ জন ছাত্র সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছিলেন। 

সার্বিকভাবে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। তবে পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।