গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

মোদিবিরোধী জোটের বিক্ষোভে লাখো মানুষ; রামলীলা ময়দানের ভেতরে যত জন, বাইরে তার দ্বিগুণ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
মোদিবিরোধী জোটের বিক্ষোভে লাখো মানুষ; রামলীলা ময়দানের ভেতরে যত জন, বাইরে তার দ্বিগুণ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে 'ইন্ডিয়া' জোটের ডাকা বিক্ষোভে রামলীলা ময়দানে নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। নয়াদিল্লি, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

শঙ্কা ছিল, দূষণযুক্ত গাড়ির দিল্লি প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কারণে নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে ভিড় হবে কি না। দেখা গেল, দুপুরের মধ্যেই লাখো মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই আর ছিল না ১২ একরের ময়দান। তখনো ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের নিয়ে হুডখোলা গাড়ি রামলীলা ময়দানে ঢোকেনি। যত মানুষ ময়দানের ভেতরে, দেখা গেল বাইরে তার চেয়ে বেশি। বহু বিক্ষোভকারীকে দেখা যায়, ময়দানে ঢুকতে না পেরে কনট প্লেসের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছেন।

শঙ্কা দেখা দিয়েছিল অন্যত্রও। গতকাল শনিবারই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ইনস্টাগ্রাম বার্তায় জানান, কনট প্লেস–মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে তাঁরা মিছিল করে এক কিলোমিটার দূরে রামলীলা ময়দানে যাবেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের কাছে জনসভার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সেই অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিছিলের কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন দেখা দেয়, বিরোধী নেতারা মিছিল করতে চাইলে পুলিশ কী করবে।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সেই সংশয়ও দূর হলো। ঠিক হয়, বিরোধী জোটের নেতারা সবাই হুডখোলা গাড়িতে চেপে রামলীলা ময়দানে পৌঁছাবেন। দেখা যায়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বিরোধী নেতারা জড়ো হলেন। দুপুর ১২টার আগেই মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তেজস্বী যাদব, এম এ বেবি, ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি, দীপংকর ভট্টাচার্য, কল্পনা সোরেন, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউতসহ বিভিন্ন বিরোধী নেতা–নেত্রী খোলা গাড়িতে সওয়ার হলেন। সঙ্গে অন্য গাড়িতে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের অন্য নেতারা। কনট প্লেস–মিন্টো রোড ক্রসিং থেকে তাঁদের পাশাপাশি চলতে শুরু করলেন হাজারো কর্মী–সমর্থক।

ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে 'ইন্ডিয়া' জোট রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের ডাক দেয়। নয়াদিল্লি, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

এক কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে রামলীলা ময়দানে নেতাদের সেই মিছিল যেতে সময় লাগল দুই ঘণ্টার বেশি। ততক্ষণে ময়দান ভরে যাওয়ায় দিল্লি পুলিশ সাধারণ মানুষের ঢোকার জন্য ফটকগুলো বন্ধ করে দেয়। ময়দানজুড়ে উড়তে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা ও জাতীয় পতাকা।

শুধু রামলীলা ময়দানের ভেতর–বাইরেই মোতায়েন করা হয় চার হাজার পুলিশ। আশপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছয় হাজারের বেশি। রোববার ছুটির দিন বলে কনট প্লেস ও লুটেন্স দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সব অফিস বন্ধ ছিল। গাড়ি চলাচলও ছিল সীমিত। গোটা তল্লাটে ছিল বিরোধী কর্মী–সমর্থকদের উপস্থিতি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে আগেই বিবৃতি দিয়ে রামলীলা ময়দানের বিক্ষোভ সমাবেশকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

পুলিশকে ফাঁকি দিয়েছেন ঠিকই, মোদির জন্য কি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবেন নেহা বোরা

গত শনিবার রাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে নতুন করে সমর্থন জানান। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের বক্তব্য, যেহেতু তাঁরা অরাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ, সেই কারণে রাজনৈতিক দলের সমাবেশে যোগ দেওয়া সমীচীন নয়। মমতাকে দিপকে বলেন, সিজেপি এক স্বাধীন সংগঠন। নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম। তাঁরা সেভাবেই থাকতে চান। যদিও ভোট চুরির এই আন্দোলনে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। যারাই ভোট চুরির বিরুদ্ধে ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন করছে, সিজেপি তাদের সমর্থন করবে। সিজেপির শীর্ষ নেতারা রোববারের মিছিলে যোগ না দিলেও বহু তরুণ–তরুণীকে তেলাপোকার পোস্টার হাতে হাঁটতে দেখা যায়।

ইন্ডিয়া জোটের এই সমাবেশ বন্ধ করার চেষ্টায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ অনেক চেষ্টা করেছিল। ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব ট্রেডার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করা হয়েছিল এই সমাবেশ ১০ দিন পিছিয়ে দিতে। সংগঠনের নেতারা রাহুলের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইন্ডিয়া নেতৃত্ব সেই অনুরোধ গ্রাহ্য করেননি। রামলীলা ময়দানে আসার সময় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপিই জবরদস্তি করে আশপাশের সব দোকান–বাজার বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে মিছিলে যোগদানকারীরা কিছু কিনতে না পারেন এবং যাতে ব্যবসা বন্ধের জন্য বিরোধীদের দায়ী করা যায়।

১ নভেম্বরের এই সমাবেশ বন্ধে বিজেপিও চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। তারা এই প্রচারও করেছিল, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিহত হওয়ার পর এই দিন দিল্লিতে শিখ নিধন দাঙ্গা হয়েছিল। সেই দিনে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর মতো শিষ্টাচার কংগ্রেসিদের দেখানো উচিত। বিজেপির পক্ষ থেকে রোববারেই পশ্চিম দিল্লিতে একটি মিছিল বের করা হয় নিহত শিখদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির নেত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

দূষণযুক্ত যান নিষিদ্ধ করার ফলে দিল্লিতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।