গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:২৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

শেরপুরে ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
শেরপুরে ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া নারীকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের পুরাতন গরুহাটি মহল্লার পিবিআই অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর সকালে শ্রীবরদীতে কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ একাধিক চিহ্ন দেখা যায়। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত জানা যায়, তার নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার মো. শাকিল মিয়ার মেয়ে। 

এ ঘটনার পরদিন ২৩ অক্টোবর নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫ জনকে আসামী করে শেরপুরের শ্রীবরদি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

এদিকে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্তে নামে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার কাজলদিঘী ইউনিয়নের দিঘলগ্রাম থেকে মো. নূর ইসলাম বাবুকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ অক্টোবর জামালপুর থেকে মো. সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ নভেম্বর কুমিল্লার দাউদকান্দি ও শেরপুরের শ্রীবরদী এলাকা থেকে মো. নূর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ও মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, ভিকটিম ঝিনুক আক্তার গাজীপুরের টংগীর একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর দুপুরে ঝিনুককে ঢাকার উত্তরখানের একটি ৫ তলা বিল্ডিংয়ের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় আসামী সজল, বাবু, বুশা ও মাহবুবা। এ সময় তারা ঝিনুককে ১০-১২ জনের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করায়। ঘটনার পর ভিকটিম চলে যেতে চাইলে আসামি ফাতেমা ভিকটিমকে ১২০০ টাকা প্রদান করেন। 

কিন্তু ভিকটিম ওই টাকা না নিয়ে আরও অধিক টাকা দাবি করলে ফাতেমা ও ঝিনুকের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম ঝিনুককে বটি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে ফাতেমা। গলায় গামছা পেচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে জুয়েল, বাবু ও সজল।

হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে গাড়িতে করে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে নূর ইসলাম বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

শেরপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। পিবিআইয়ের একটি দল দ্রুত তদন্ত করে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।