
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, নতুন কোনো যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নির্ধারণের সুযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকবে না।
আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে। যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা কী শর্তে এর সমাপ্তি ঘটবে, তা ঠিক করার অবস্থানে থাকবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ের পর্যায়ের কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও লেবানন ও ইয়েমেনে লড়াইয়ে যোগ দেয়।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘিও যেকোনো হামলার জবাবে সমানুপাতিক, চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা হুমকি সৃষ্টি করছে, তারা ইরানের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের পরিধি, সময় বা পরিণতি নির্ধারণ করতে পারবে না। একই দিনে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির আগের দিনের লিখিত বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। শত্রুর ক্ষতিসাধনের জন্য বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরানে ‘এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু’ বাকি, দাবি ট্রাম্পের
এর আগে গতকাল শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে, যেগুলো মাত্র ১০ মিনিটে ধ্বংস করা সম্ভব। এ সময় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি সন্দেহজনক ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেখানে কোনো পারমাণবিক কর্মকাণ্ড চালানোর কথা অস্বীকার করেছে ইরান সরকার।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি বলেন, তেহরানকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন নতুন কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে তাড়াহুড়া করছে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার বলেন, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে সম্প্রতি আবার সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এ অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো