প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ এএম || প্রকাশের তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১০ এএম
জরাজীর্ণ ভবন, দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল আর নিরাপত্তাঝুঁকি। ভবনের ভেতরে বসানো হয়েছিল অসংখ্য স্টিলের খুঁটি ও সাপোর্ট কাঠামো। এভাবেই চলছিল প্যাসিফিক জিন্স ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম। শেষ পর্যন্ত ভবনের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স শর্তের কারণে বন্ধ হতে যাচ্ছে সিইপিজেডে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্সের উৎপাদন ইউনিট। এতে একসঙ্গে কর্মহীন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত প্যাসিফিক গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে -বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সুত্র বলছে, পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে বিদায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের চারটি বেসিকের সমপরিমাণ অর্থ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বেপজার নির্বাহী পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে ব্যয় হবে প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা।
ইতোমধ্যে পহেলা নভেম্বর এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্যাসিফিক জিন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল (আরএসসি) ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের আইনানুগ সব পাওনা পরিশোধ করে পর্যায়ক্রমে চাকরির অবসান করা হবে। পাশাপাশি পুরোনো ভবনটি ভেঙে একই স্থানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নতুন কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। নতুন কারখানাটি চালু হলে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বর্তমান শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যদিও ভবন পুনর্নির্মাণ শেষে অভিজ্ঞ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। তবে নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হতে কত সময় লাগবে, ততদিন এসব শ্রমিকের কর্মসংস্থান কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে আইনানুগ পাওনা বুঝে পেলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
চট্টগ্রাম ইপিজেডের চার নম্বর সেক্টরের এক নম্বর সড়কে তিনটি ভবনে প্যাসিফিক জিন্সের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় একাধিকবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যেও সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবনের নিরাপত্তাঝুঁকি সামাল দিতে বিভিন্ন সময়ে ভেতরে অতিরিক্ত স্টিলের খুঁটি ও সাপোর্ট কাঠামো বসানো হয়। প্রকৌশলবিদ্যায় এ ধরনের অস্থায়ী ভারবহন ব্যবস্থাকে স্টিল প্রপিং সিস্টেম বলা হয়। বেপজার প্রকৌশলীদের পরামর্শেও ভবনটিতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে।
শ্রমিক সূত্রের দাবি, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
বন্ধ হতে যাওয়া উৎপাদন কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে ছয়টি বিভাগ- কাটিং, সুইং, ওয়াশিং, ফিনিশিং, প্রোডাকশন ডিপার্টমেন্ট (পিএডি) ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ডিপার্টমেন্ট (কিউএডি)। সুত্র বলছে এসব বিভাগে কাজ করেন প্রায় ৫ হাজার ৬০০ শ্রমিক। উৎপাদন ইউনিট বন্ধের সিদ্ধান্তে তাদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত অনেক শ্রমিকই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। হঠাৎ কর্মস্থল হারানোর খবরে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন চাকরি পাওয়া, পরিবারের ভরণপোষণ এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এমনকি সামনে ঈদুল ফিতর এর আগে অন্যত্র কাজে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে কিনা। এ নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা।
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের পিএডি বিভাগের হেলপার শাকিল হোসেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে কাজ করছি। কারখানা বন্ধের খবরে অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’
শাকিল বলেন, ‘চাকরিটা চলে গেলে নতুন কাজ পাওয়া কঠিন হবে। এত হাজার লোক একসঙ্গে কোথায় চাকরি করবে? পরিবারের খরচ চালানো নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ কালবেলাকে জানায়, গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে উৎপাদন ইউনিট বন্ধ এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে চারটি বেসিকের সমপরিমাণ অর্থ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিট বন্ধের কারণ উল্লেখ করে নোটিশ ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে পাওনা পরিশোধের সময়সীমা এবং শ্রমিকদের অন্যান্য আইনগত সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে প্যাসিফিক জিন্সের পুরোনো ভবনগুলোর বয়স প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স ও বিল্ডিং সেফটি অডিটে, বিশেষ করে আরএসসি অডিটে, এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে এসব ভবনে নতুন কাজের অর্ডার দিতে আপত্তি জানান ক্রেতারা। এ পরিস্থিতিতে ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজিএমইএ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আবু তৈয়ব কালবেলাকে বলেন, ‘আমি যতদূর জানি প্যাসিফিক জিন্সের পুরোনো ভবনটি কমপ্লায়েন্স ও বিল্ডিং সেফটির নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় এবং বায়ারদের আপত্তি থাকায় সেটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ওই ভবনে পরিচালিত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে। ভবনটির সংশ্লিষ্ট ইউনিটে প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করতেন।’
তিনি বলেন, ‘পুরো কারখানা বা প্যাসিফিক জিন্সের তিনটি ভবন বন্ধ করা হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকা নির্দিষ্ট পুরোনো ভবনটি খালি করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। অন্যান্য ভবনে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার কথা।’
চট্টগ্রাম ইপিজেডের বেপজা নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘প্যাসিফিক জিন্সের পুরোনো ভবনগুলো জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে বায়ারদের করা কমপ্লায়েন্স ও বিল্ডিং সেফটি অডিটে, যেমন আরএসসি অডিটে, এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ কারণে বায়াররা এসব ভবনে নতুন কোনো কাজের অর্ডার দিতে অস্বীকৃতি জানায়।’
তিনি বলেন, ‘কোম্পানি বাধ্য হয়ে ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুনর্নির্মাণের সময় ভবনগুলো বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রায় ছয় হাজার শ্রমিককে আইনানুগ পাওনাসহ সব পাওনা পরিশোধ করে বিদায় দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে।’
শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ও পাওনার সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে এসব অভিজ্ঞ শ্রমিক চাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে গ্রুপটির অন্যান্য কারখানা বন্ধ হচ্ছে না। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বা নির্দিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেগুলো নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।’
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা নতুন নয়। বেতন কাঠামো, বদলি ও জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগসহ চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছরে গ্রুপটির একাধিক কারখানায় আন্দোলন হয়েছে। এসব ঘটনায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কারখানা বন্ধের ঘটনাও ঘটেছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গ্রুপটির বিভিন্ন ইউনিটে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জোরপূর্বক পদত্যাগ ও বদলির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ইউনিটে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। কয়েকটি ইউনিটের ফটক অবরোধ করে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়।
সবচেয়ে বড় অস্থিরতা দেখা দেয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। ওই মাসে টানা শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষে গ্রুপটির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ১৬ অক্টোবরের সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জন আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে সে সময় গ্রুপটির সাতটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ২৩ অক্টোবর কারখানাগুলো পুনরায় চালু হয়।
আগের এসব ঘটনার পর নতুন করে উৎপাদন ইউনিট বন্ধের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এবার ভবনের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স শর্তকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানে।
দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা গ্রুপটি ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে। ডেনিম ও প্রিমিয়াম জিন্সজাত পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি রয়েছে। গ্রুপটির নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পণ্য বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে রপ্তানি হয়।
চট্টগ্রাম ইপিজেডে গ্রুপটির সাতটি কারখানা রয়েছে। এগুলো হলো- প্যাসিফিক জিন্স, জিন্স ২০০০, ইউনিভার্সাল জিন্স, এনএইচটি ফ্যাশন, প্যাসিফিক অ্যাকসেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যার ও প্যাসিফিক অ্যাটায়ার্স। এর মধ্যে প্যাসিফিক জিন্সের দুটি এবং ইউনিভার্সাল জিন্সের চারটি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রুপটির সাত কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের রপ্তানি আয় ছিল ৪০ কোটি ৬১ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। বিপুল রপ্তানি আয়ের এ গ্রুপের একটি বড় উৎপাদন ইউনিট বন্ধের সিদ্ধান্তে একদিকে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা এমনকি পোশাক রপ্তানি আয়ে প্রভাবের শঙ্কা হয়েছে হয়েছে।
প্যাসিফিক জিন্সে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবরের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর ৩১ অক্টোবর কাটিং বিভাগে কর্মরত শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আইনানুগ চিঠি দেওয়ার পর বাসে করে তাদের কারখানা থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়। এ সময় শিল্প পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের পাহারা ছিল। বাসগুলো শ্রমিকদের নিয়ে চট্টগ্রাম ইপিজেডের সীমানার বাইরে চলে যায়।
অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী, একসঙ্গে সব শ্রমিককে ছাঁটাই না করে বিভাগভিত্তিক এ প্রক্রিয়া চলবে। আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকদের বিদায় জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ৪ নভেম্বরে শ্রমিক এবং ১২ নভেম্বরের আগে উচ্চপদস্থ সহ সব কর্মকর্তাকে বিদায় করা হবে। এরই মধ্যে ৩১ নভেম্বর সকালে কাটিং বিভাগের শ্রমিকদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
শ্রমিকদের বিদায় কার্যক্রম শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো থেকে উৎপাদন যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এরপর নভেম্বরের ১৫ তারিখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এবং সব শ্রমিকের পাওনাদি পরিশোধ করে। ভবনগুলোকে উৎপাদন কার্যক্রমের অনুপযোগী ঘোষণা করে ভেঙে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স