বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের ৬১তম জন্মদিন সোমবার (২ নভেম্বর)। শুধু অভিনয় নয়, গত দুই দশকে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, শাহরুখ খানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, যা তাকে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা করেছে। তার এই সাম্রাজ্যের উৎস কী কী, দেখে নেওয়া যাক: প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ২০০২ সালে স্ত্রী গৌরী খানকে নিয়ে শুরু করেন এই প্রোডাকশন হাউস। শুরুটা সিনেমা প্রযোজনা দিয়ে হলেও এখন এর ব্যবসা তিন ভাগে বিভক্ত। নিজের সিনেমা যেমন ‘ওম শান্তি ওম’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ প্রযোজনার পাশাপাশি কোম্পানিটি এখন বলিউডের অন্যতম বড় ভিএফএক্স স্টুডিও ‘রেড চিলিজ ভিএফএক্স’ এবং ওটিটি কন্টেন্ট তৈরি করে। ২০২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা এবং লাভ ৮৫ কোটি টাকা। কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গ্লোবাল ক্রিকেট ব্যবসা ২০০৮ সালে আইপিএল শুরুর সময় তারকা মালিকানা নতুন ধারণা ছিল। শাহরুখ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) দেন গ্ল্যামার ও বিনোদনের পরিচয়। কেকেআর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে – ২০১২, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালে। এখন কেকেআর শুধু ভারতের দল নয়, নাইট রাইডার্স গ্রুপ একটি বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এর অধীনে রয়েছে ক্যারিবিয়ানের ত্রিবাগো নাইট রাইডার্স, আরব আমিরাতের আবু ধাবি নাইট রাইডার্স এবং আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনায় তারা নিজেদের ক্রিকেট স্টেডিয়ামও উদ্বোধন করেছে। ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বিজ্ঞাপনের বাজারে শাহরুখ এখনো এক নম্বর। ক্রলের সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন ২০২৫ অনুযায়ী, তার ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৬৯৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ২৮টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩৬টি হয়েছে। হুন্দাই, দুবাই ট্যুরিজম থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে তিনি সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন মুখ। বিনিয়োগ এবং অন্যান্য ব্যবসা শাহরুখের ফ্যামিলি অফিস বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে। শিশুদের জন্য জনপ্রিয় এডুটেইনমেন্ট পার্ক কিডজানিয়াতে তার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া প্রযুক্তি, রিয়েল এস্টেট এবং মিডিয়া টেক স্টার্টআপেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। ডি’ইয়াভল- ছেলে আরিয়ানের সঙ্গে লাক্সারি ব্র্যান্ড ছেলে আরিয়ান খানের সঙ্গে মিলে তিনি তৈরি করেছেন লাক্সারি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘ডি’ইয়াভল’। এই ব্র্যান্ডটি প্রিমিয়াম ফ্যাশন এবং লাক্সারি মদের ব্যবসা করে, যার সঙ্গে রেডিকো খৈতানের মতো কোম্পানির অংশীদারিত্ব রয়েছে। রিয়েল এস্টেট তার সম্পদের একটি বড় অংশ রিয়েল এস্টেট। মুম্বাইয়ের মান্নাত এখন শুধু বাড়ি নয়, একটি ল্যান্ডমার্ক। এছাড়া দুবাইয়ের পাম জুমেইরাতে ভিলা, লন্ডন সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তার সম্পত্তি রয়েছে। সিনেমাই আসল ভিত্তি এত ব্যবসার পরেও সিনেমাই তার আয়ের মূল উৎস। প্রতিটি সিনেমা থেকে তিনি অভিনয় পারিশ্রমিক, প্রযোজনা থেকে লাভ এবং প্রফিট শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে একাধিক স্তরে আয় করেন। সব মিলিয়ে, শাহরুখ খান প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু পর্দার কিং নন, ব্যবসার দুনিয়াতেও তিনি বাদশা। ইকোনোমিক টাইমস