গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোংলা বন্দরের কর্মচারী বরখাস্ত

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোংলা বন্দরের কর্মচারী বরখাস্ত

পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় মোংলা থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগীর শিশুর পরিবার। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার অনুকূলে বরাদ্দকৃত আবাসিক ফ্ল্যাট বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম ইয়ার মো. সুমির। তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল অ্যান্ড হাইড্রোলিক্স বিভাগের সিনিয়র আউটডোর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবার ও অভিযুক্ত ইয়ার মো. সমীর পাশাপাশি বাসায় বসবাস করতেন। গত ২৫ অক্টোবর শিশুটিকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে শিশুর পরিবার।

পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯১-এর সংশ্লিষ্ট প্রবিধি অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করে ইয়ার মো. সুমিরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।​

রোববার (০১ নভেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বরখাস্তের নির্দেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি মোতাবেক কেবল খোরাকি ভাতা পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।​

এদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের অপর এক আদেশে অভিযুক্তের নামে বরাদ্দ থাকা বন্দর আবাসিক ভবনে তার নামে বরাদ্দ থাকা ফ্ল্যাট বাতিল করা হয়। 

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত ইয়ার মো. সুমির। তিনি হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে বন্দর আবাসিকে বসবাস করতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক কর্মচারী জানান, ওই শিশুটিকে এর আগেও নির্যাতন করে সমীর। আগের ঘটনায় শিশুটি ভয়ে বলেনি। এবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, বন্দরের এক কর্মচারীর শিশুকন্যার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি বরাদ্দকৃত আবাসিক বাসা বাতিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার অপরাধকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রশ্রয় দেবে না।​

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।