যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে আপাতত ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি এবং আবার সামরিক অভিযান শুরুর সময় নিয়ে শনিবার দুই নেতার মধ্যে খোলামেলা ফোনালাপ হয়। ইসরায়েলি সূত্র ওই আলোচনাকে ‘কঠিন’ এবং মার্কিন সূত্র ‘সরাসরি’ বলে বর্ণনা করেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেছে ওয়াশিংটন। তবে এর আগে ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ট্রাম্পও শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং এ বিষয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। তবে ইরানের এক বা দুটি পারমাণবিক স্থাপনার বিষয় যুক্তরাষ্ট্রকে দেখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের অবস্থান
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে একটি চিঠি পাঠান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে রেজাই জানান, তিনি চিঠিটি পেয়েছেন ও পড়েছেন, তবে এখনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ধরন বদলে গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছে দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণের দাবি থেকে সরে আসেনি তেহরান।
কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রোববার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রশ্নগুলোর জবাব দিলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।
সূত্র: অ্যাক্সিওস; ইরান ইন্টারন্যাশনাল
সূত্র: কালবেলা