পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়ানো চীনের গোপন সামরিক মহাকাশযান ‘শেনলং’-এর বিস্তারিত ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। কয়েক বছর ধরে মহাকাশে সক্রিয় থাকা এই মনুষ্যবিহীন মহাকাশযানটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (এলইও) একাধিকবার অজ্ঞাত বস্তু ছেড়েছে। এসব ঘটনার পর থেকেই মহাকাশযানটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নতুন ছবিটি গবেষকদের এর সক্ষমতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ করে দিয়েছে।
স্পেস ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ম্যাক্সার টেকনোলজিসের (বর্তমানে ভ্যান্টর) একটি স্যাটেলাইট থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা মহাকাশযানটির ছবিটি তোলা হয়। প্রতি পিক্সেলে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার রেজল্যুশনের ছবিটিতে শেনলংয়ের বিভিন্ন অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) একটি হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনের অংশ। সেখানে শেনলংকে এমন একটি মহাকাশযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা কক্ষপথে গিয়ে মহাকাশে বিভিন্ন বস্তু স্থাপন করতে পারে, সেগুলোর পরীক্ষা চালাতে পারে এবং পরে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।
ছবিতে দেখা যায়, সৌর প্যানেল মেলে অন্য একটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় রয়েছে শেনলং। মহাকাশযানটির পেছনের দিকে থাকা পেলোড দরজাটিও খোলা বলে মনে হচ্ছে।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য এই চীনা মহাকাশযানটি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং নির্মিত এক্স-৩৭বি মহাকাশযানের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর এটি পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে এবং পরে বিমানের মতো অবতরণ করে।
বর্তমানে চীনা মহাকাশযানটি চতুর্থ মিশনে রয়েছে। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে লং মার্চ-২এফ রকেটে করে এর যাত্রা শুরু হয়।
শেনলংয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করেনি চীন। তবে ভ্যান্টর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মহাকাশযানটির দৈর্ঘ্য ২৬ ফুট।
এদিকে চলতি সপ্তাহে কোন কোন শহর থেকে শেনলংকে দেখা যেতে পারে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে স্পেস ডটকম। ‘হেভেনস অ্যাবাভ’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর ডেনভার এবং ৫ ও ৬ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশের ওপর দিয়ে যাবে মহাকাশযানটি। ফলে শহরগুলোর বাসিন্দারা খালি চোখেই এটি দেখার সুযোগ পেতে পারেন।
স্পেস ডটকম আরও জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগের আকাশে মহাকাশযানটি দেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ পাওয়া যাবে।
সূত্র : স্পেস ডটকম
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স