মিয়ানমারের সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এবং বিরল খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি কৌশলগত নথিতে এ পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।
রয়টার্স গত মাসে জানিয়েছিল, মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারসদৃশ প্রশাসনের সঙ্গে নীরবে আলোচনা চালাচ্ছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
২০২১ সালের ওই অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, সংঘাতে এক লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন রাখার নীতি থেকে সরে এসে দেশটির সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছে ওয়াশিংটন। আলোচনায় বিরল খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এসব খনিজের বেশির ভাগই সংঘাতকবলিত এলাকায় অবস্থিত এবং বর্তমানে চীনে রপ্তানি হয়।
মার্কিন কৌশলগত নথিতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করতে একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে অন্তত তিনটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব আলোচনায় রাজস্ব ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও অঞ্চলের ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং আঞ্চলিক সীমানা নির্ধারণের মতো বিষয় থাকবে। এর মাধ্যমে দেশটির বিরল খনিজ সম্পদে প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ওয়াশিংটন। পাশাপাশি প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধ, মার্কিন ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং প্রকৃত শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তবে অভ্যুত্থানের নেতা ও বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং, সামরিক সরকারের অন্য কর্মকর্তা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের কয়েকজন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
নথিতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের অন্তত তিনটি বড় বাণিজ্যিক বা বিনিয়োগ চুক্তি নিশ্চিত করতে চায় দেশটির দূতাবাস।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণাকেন্দ্র বন্ধে আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও কৌশলগত নথিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
সূত্র: কালবেলা