শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি, শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের প্রত্যয়ে এক বিশেষ সেমিনার ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম জোরারগঞ্জের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এ অনুষ্ঠান হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছোলাইমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) ড. মো. আব্দুস সবুর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হলো বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত। এই খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বস্ত্র অধিদপ্তর। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দেশের টেক্সটাইল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুস সবুর দেশের টেক্সটাইল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স ও অবকাঠামোগত মানোন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ল্যাবরেটরিগুলোতে স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।
তৃণমূল পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৪১টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ১০টি নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যা তৃণমূলের তরুণদের দক্ষ জনবলে রূপান্তর করবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ- ডিসেম্বরে চীনের সঙ্গে চুক্তি
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষাকে নিয়ে যেতে গণচীনের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা দেশে আসবেন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিয়ে চীনে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এই আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আগামী ডিসেম্বর (২০২৬) প্রথম সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এবং বিটিএমএর মতো শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর সাথে সমন্বয় করে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।
বস্ত্র অধিদপ্তরের এই দূরদর্শী ও আধুনিক উদ্যোগ বাংলাদেশের বস্ত্র খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের এই সমন্বিত প্রয়াস দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ব দরবারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বস্ত্র অধিদপ্তরের এই দূরদর্শী উদ্যোগ বাংলাদেশের বস্ত্র খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, উন্নত ল্যাব সুবিধা এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের এই সমন্বিত প্রয়াস দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি 'মেড ইন বাংলাদেশ' ব্র্যান্ডকে বিশ্ব দরবারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মহাপরিচালক।
বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, শিক্ষা ও শিল্পের মেলবন্ধনে এগিয়ে যাক আগামীর সম্ভাবনা। এই মহতী আয়োজনকে সফল ও অর্থবহ করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকল সম্মানিত অতিথি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামসুদ্দিন টাওয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লিফটন গ্রুপের পরিচালক ও সিইও মো. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেডের সিওও মাহবুবুল আলম, কেডিএস গার্মেন্টস বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সুবীর দাস এবং বস্ত্র অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিচালক (উপসচিব) মো. আ. কুদদূস।
অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাথে দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরাসরি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিশেষ সুযোগ পাবেন।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স