গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:২১ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ ডাইং কারখানার দূষণ

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ ডাইং কারখানার দূষণ
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ সুতা রং করার (ডায়িং) কারখানার দৌরাত্ম্য। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব কারখানায় জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়, জলাশয়ে ও যমুনা নদীর শাখাতে। এতে এলাকার পরিবেশ যেমন মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, তেমনি চরম হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলকুচির বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) ছাড়াই গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ডায়িং কারখানা। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর সুতায় ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য পানি সরাসরি আশপাশের কৃষিজমি, নালা-নর্দমা, পুকুর ও  নদীতে গড়াচ্ছে। এতে করে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে এবং আশপাশের জলাশয়ের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা বা কারখানা সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় শুরু হয় একই কর্মকাণ্ড। দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। নলকূপ থেকে পানি তুলেও স্বস্তি নেই। কারখানার আশপাশের বাড়িগুলোর টিউবওয়েল পানিতেও মিলছে  ক্ষতিকারক কেমিক্যালের মিশ্রিত পানি, যা ব্যবহার ও পান করার ফলে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েকজন ডায়িং কারখানা মালিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এই এলাকার অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে তাঁত শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচাতে হলে ডায়িং কারখানা টিকিয়ে রাখতে হবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ অভিযান না দিয়ে যদি সরকারি সহযোগিতায় ইটিপি (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) স্থাপন করা হয়, তাহলে পরিবেশ দূষণ হবে না। মানুষের সমস্যা হবে না। আমাদের তাঁত শিল্পটাকেও বাঁচানো যাবে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ ডায়িং কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে থাকি। কারখানা বন্ধ ও অর্থদণ্ড করা হয়। তবে এতে আসলে প্রকৃতভাবে ওই এলাকার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। আশা করছি তারা খুব দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।