গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০০ এএম

চুল পড়ার সঙ্গে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
চুল পড়ার সঙ্গে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

আমাদের কানের গভীরে থাকা হেয়ার সেল নামে পরিচিত বিশেষ কোষগুলো শব্দের কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। সম্প্রতি শ্রবণশক্তির জন্য অপরিহার্য টিএমসি১ ও টিএমসি২ প্রোটিনের নতুন তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ডেফনেস অ্যান্ড আদার কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারসের পোস্টডক্টরাল ফেলো হুবার্ট লি জানিয়েছেন, শব্দের কম্পন যখন চুলসদৃশ কাঠামোকে বাঁকিয়ে দেয়, তখন এটি কোষের মধ্যে আয়ন চলাচলের পথ খুলে দেয়। এটি মস্তিষ্কে শব্দ বহনকারী সংকেত তৈরি করে। কিন্তু এই চ্যানেল প্রোটিনে কোনো সমস্যা হলে হেয়ার সেল মারা যায়। এই সেল নতুন করে তৈরি হয় না, তাই শ্রবণশক্তি হ্রাস স্থায়ী হয়। নতুন এ গবেষণা ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ৮০তম বায়োফিজিক্যাল সোসাইটি বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শ্রবণশক্তির জন্য অপরিহার্য টিএমসি১ ও টিএমসি২ প্রোটিন কোষঝিল্লিতে ফ্যাটি অণুগুলোকে বিশৃঙ্খল বা পুনর্বিন্যাস করে। জিনগত পরিবর্তন, শব্দজনিত ক্ষতি বা কিছু ওষুধের কারণে যখন এই প্রোটিনের কাজে বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে কানের সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কোষ ধ্বংস হয়ে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী অ্যাঞ্জেলা ব্যালেস্টেরোস বলেন, আমরা দেখেছি টিএমসি১ ও টিএমসি২ কেবল শ্রবণশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ন চ্যানেলই নয়, তারা কোষের ঝিল্লিও নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা মনে করি চ্যানেল ফাংশন নয়, ঝিল্লি নিয়ন্ত্রণ কাজের ত্রুটি হেয়ার সেল মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে ফসফোলিপিড কোষের নির্দিষ্ট পাশে থাকে। যখন ফসফাটিডিলসেরিন নামের একটি বিশেষ ফসফোলিপিড কোষের বাইরের পৃষ্ঠে চলে আসে, তখন কোষটি মারা যাওয়ার সংকেত দেয়।

অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড নামের সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো শ্রবণশক্তির ক্ষতি করার জন্য পরিচিত। অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কোষের ঝিল্লি ধ্বংসকারী স্ক্র্যামব্লেস কার্যকলাপকে সক্রিয় করে। এনআইএইচ-জেএইচইউ প্রোগ্রামের বিজ্ঞানী ইয়েন ক্রিস্টিনা পার্ক বলেন, ওষুধ কীভাবে স্ক্র্যামব্লেসকে সক্রিয় করে তা বুঝতে পারলে আমরা ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত নতুন ওষুধ তৈরি করতে পারব। তখন আমরা এমন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতে পারব যা স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের কারণ হবে না।

সূত্র: ইউরেকা অ্যালার্ট

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।