বাংলাদেশের সংবিধান প্রসঙ্গে দুটো পরস্পরবিরোধী কথা একসঙ্গে বলা যায়। বাংলাদেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের ফল। ১৯৬০–এর দশকের নিপীড়ক রাষ্ট্রবিরোধী সব সংগ্রামের প্রতিফলন এখানে আছে। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে দর্শন ও আকাঙ্ক্ষার বাণী দিয়ে বিচার করতে গেলে আমাদের সংবিধান অত্যন্ত অগ্রসর একটা দলিল। ব্যতিক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো এই সংবিধানের উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রবণতা, যা নিয়ে গণপরিষদেও কথা উঠেছিল।
অন্যদিকে এই একই সংবিধানকে কার্যপ্রক্রিয়ার দিক দিয়ে বিচার করা হলে দেখা যাবে, তা জনগণকে যথাসম্ভব ক্ষমতাহীন করেছে এবং ক্ষমতাকে করেছে এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত। গণপরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একে এককথায় এভাবে প্রকাশ করেছিলেন, ‘পাকিস্তানের ১৯৬২ সালের সংবিধানে আইয়ুব খানকে কেন্দ্র করে যেভাবে যা রচিত হয়েছিল, ঠিক আজকে আমাদের ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে সেইভাবে তাই রচনা করা হয়েছে।’
বাংলাদেশের সংবিধানের এই বৈপরীত্য নিয়ে সংবিধান প্রণয়নের সময়েই কথা উঠেছিল, গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বলেছিলেন, ‘এক হাতে অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং অন্য হাতে সেটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
বহু দশক পর সংবিধানের দর্শন ও কার্যপ্রক্রিয়ার এই বৈপরীত্যই রাজনীতির মাঠে প্রধান প্রশ্ন হিসেবে সামনে চলে এসেছে।
২
পৃথিবীজুড়েই এখন সংস্কারের মৌসুম চলছে। শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের পথ ধরে নেপালেও সরকার উড়ে গেল। ভারতের তরুণেরা বহু দশক পর রাজপথ উত্তাল করেছে। এরপর এল ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ।
দুনিয়াজুড়ে এই তারুণ্যের বিদ্রোহের মধ্যে কি কোনো গোপন যোগসাজশ, কোনো গোপন ঐকতান আছে, যেমন ছিল অগ্নিঝরা ১৯৬০–এর দশকের ছাত্র আন্দোলনে, কিংবা ২০ বছর আগেকার আরব বসন্তে? কিংবা তাদের আকাঙ্ক্ষার ধরনে কি কোনো সাদৃশ্য আছে?
মিলের জায়গা একটাই। আন্দোলনগুলোর সূচনা হয়েছে কিছু একটার প্রতিবাদে তরুণদের বিক্ষোভে ফেটে পড়া থেকে। তারপর কোনো কোনো আন্দোলনে শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, অন্যান্য রাজনৈতিক দল নানান মাত্রায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের সূচনার সূচিমুখ হিসেবে সব সময় তরুণেরাই থেকেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মিলটা এখানে দেখা যাক। বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী তরুণদের অপমানসূচকভাবে ‘রাজাকার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন সরকারি লোকজন। বলা যায়, ২০১৮ সাল থেকে তরুণদের কয়েকবারের বিস্ফোরণের পরিণতি হলো চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান। ভারতের এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে অভিহিত করেছিলেন সেখানকার প্রধান বিচারপতি। প্রতিবাদে ‘তেলাপোকা’ পরিণত হলো বিদ্রোহের প্রতীকে। তারা একভাবে এমন একটা ন্যায্যতার ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছে যে বাকি সব রাজনৈতিক দলকে তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
ফ্রান্সের তরুণদেরও একটা কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে—আমাদের কথা কেউ শুনতে চায় না। শ্রেণিকক্ষের পরিস্থিতি নিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা, তা শেষ পর্যন্ত শ্রেণিগত, বণবাদী, জাতিগত এবং সম্পদের বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে সর্বস্তরের ক্ষোভকে ভাষা দিয়েছে।
অমিলের জায়গাও অনেক। কিন্তু অমিলগুলোর একটা বড় কারণ সম্ভবত রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ধরন থেকে এসেছে। বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো ঘটনায় যেভাবে শিশুদের রক্ত ঝরানো হয়েছিল, কোটা আন্দোলনে হাতুড়ি আর হেলমেটের যে দাপট মানুষ দেখেছে এবং সর্বশেষ গণ–অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই পুলিশ-র্যাব-বিজিবি যেভাবে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও অন্যান্য ধরনের নিপীড়ন করেছে, তা দুনিয়াজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ের কোনো আন্দোলনেই এতটা ছিল না। অথচ শেষ অধ্যায়ের আগপর্যন্ত বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন শুধু অহিংস ছিল না, নিজের বৈধতা উৎপাদনের ভাষাতেও হিংসাত্মক আহ্বান প্রায় ছিল না।
বাংলাদেশে সাংবিধানিক সংকট বলি, অর্থনৈতিক সংকট বলি, সমাজের গতিশীলতার সংকট বলি—সব একটা সূচিমুখে জমা হয়েছে। তা হলো বিদ্যমান বন্দোবস্ত তরুণ সমাজের সম্ভাবনা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এটা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কারণ, এই দেশগুলোর গণতন্ত্রের ক্ষয়িষ্ণুতা নিয়ে, বৈষম্য নিয়ে, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যতই আলোচনা করা হোক না কেন, সেখানে এখনো শক্তিশালী সব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর রয়েছে। আর বাংলাদেশে সংবিধানের আদি প্রবণতাগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদৌ তৈরিই হতে দেয়নি।
এ কারণেই বাংলাদেশে সংবিধানের সংস্কারের প্রশ্নটা বারবার আসছে। সেটা সংস্কারের মাধ্যমে অর্জিত হবে, নাকি বিপ্লবাত্মক রূপ নিতে পারে, সেই বিষয়ে ভাবনাটা জরুরি। কেননা, যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজে কোনো একটা কাঠামোগত বিভাজন কিংবা বৈষম্য যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং রাজনীতির প্রক্রিয়াগুলো তা অনুধাবন করতে, তার সমাধান সন্ধান করতে ব্যর্থ হয়, মানুষ যখন বুঝতে পারে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের নালিশ কেউ শুনবে না, রাজনীতির চেনা পথগুলোয় তার সমাধান নেই, তখনই একটা পর্যায়ে বিস্ফোরণগুলো ঘটে। বিস্ফোরণ প্রতিদিন ঘটে না বলে আমরা ধরে নিই মানুষ শান্ত আছে, মানুষ মেনে নিয়েছে। রাজনীতিতে এটা একটা অত্যন্ত ভুল ‘ধরে নেওয়া’।
৩
জনগোষ্ঠীর মনে যখন ক্ষোভ–অসন্তোষ জমে ওঠে, তখন শাসকেরা যোগ্য ও বিচক্ষণ হলে সংস্কারের পথে তার নিরসন হয়। শাসকেরা অযোগ্য, দুর্নীতিপরায়ণ কিংবা অন্ধ হলে বিস্ফোরণ বা সহিংসতায় তার প্রকাশ ঘটে। এ কারণেই সমাজে কী কী অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন থাকা যেকোনো বুদ্ধিমান শাসকের কর্তব্য।
বাংলাদেশে সাংবিধানিক সংকট বলি, অর্থনৈতিক সংকট বলি, সমাজের গতিশীলতার সংকট বলি—সব একটা সূচিমুখে জমা হয়েছে। তা হলো বিদ্যমান বন্দোবস্ত তরুণ সমাজের সম্ভাবনা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এটা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো যদি কতিপয়ের হাতে কুক্ষিগত থাকে, তাহলে তরুণ উদ্যোক্তা, তরুণ পণ্ডিত, তরুণ চিকিৎসক, তরুণ প্রকৌশলী, তরুণ বুদ্ধিজীবী—কেউই নিজের সম্ভাবনা বিকশিত করার যথেষ্ট পরিসর পান না।
গণ–অভ্যুত্থানের কল্যাণে রাজনীতিতে কিছু তরুণ মুখ এসেছেন। কিন্তু তাঁদেরও একটা বড় অংশ রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে পুরোনো বন্দোবস্তের লোক। ফলে এত বড় একটা গণ–অভ্যুত্থানের ফল হয়েছে কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি।
রাজনীতি করে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেকে গড়ে তুলে নিজেকে জনগণের সামনে নেতৃত্ব আকারে হাজির করা বাংলাদেশ থেকে বলতে গেলে উধাও হয়েছে। গত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক দলে জায়গা করে নেওয়া ও পদোন্নতির জন্য প্রধান যে গুণটা প্রয়োজন ছিল, তা গুন্ডামি। বহু ক্ষেত্রেই গুন্ডারা আলোকচিত্রীদের অনুরোধ করতেন তাঁদের নৃশংসতার ছবি ছাপাতে, কারণ তাতে পদপদবিতে এগোনো যাবে।
এটা কিন্তু শুধু রাজনীতিতে নয়, অর্থনীতিরও অধিকাংশ পরিসরে প্রযোজ্য। যোগাযোগ ছাড়া কোনো সৎ উদ্যোক্তার পক্ষে টিকে থাকা মুশকিল। সাধারণভাবে দেশের উদ্যোক্তা শ্রেণি জিম্মি আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক চক্রের কাছে। এর মধ্যে দ্বিতীয়টা পরিবর্তনশীল হলেও প্রথমটা পাকিস্তান আমল থেকেই অনড়-অচল।
এর প্রভাব সমাজে সর্বত্র পড়ে। রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো যদি কতিপয়ের হাতে কুক্ষিগত থাকে, তাহলে তরুণ উদ্যোক্তা, তরুণ পণ্ডিত, তরুণ চিকিৎসক, তরুণ প্রকৌশলী, তরুণ বুদ্ধিজীবী—কেউই নিজের সম্ভাবনা বিকশিত করার যথেষ্ট পরিসর পান না।

তরুণদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত একেক রাষ্ট্রে একেক সময়ে একেক কারণে হয়। আবার, সংঘাত প্রকাশের ধরনেও ভিন্নতা থাকে। বাংলাদেশের বেলায় নিশ্চিত করে বলা যায়, বহু বছর ধরেই এ দেশের কম বয়সীরা রাষ্ট্রকে প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। পুলিশ, রাজনীতিবিদ, আমলা, এমনকি সাধারণভাবে জ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী—সবাই বর্গ আকারেই তরুণদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে প্রক্রিয়া বাহাত্তরের সংবিধানে শুরু হয়েছিল, এটা তারই পরিণতি এবং এটা বিপজ্জনক। কোনো সমাজে স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ না থাকলে দুর্নীতি ও সহিংসতা সেই সমাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।
পঁচাত্তর–পরবর্তী শাসকেরা বাহাত্তরের সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইত্যাদি যুক্ত করলেও এর ক্ষমতাকাঠামোতে মৌলিক কোনো বদল করেনি। এর ব্যাখ্যায় বদরুদ্দীন উমর লিখেছিলেন, ‘তার কারণ গুণগতভাবেই এই সংবিধানটি এমন ছিল যে এই কাঠামোর ভেতর ছোটখাট কিছু সংশোধনীর মাধ্যমেই সামরিক শাসকেরা নিজেদের কাজকর্ম চালিয়ে নিতে পেরেছিল।’
অর্থাৎ উৎপাদনশীলতা নয়, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা ব্যবহার–অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ আদায়, এমনকি নিয়োগ–বাণিজ্য পরিণত হয়েছে বিত্তবান হওয়ার প্রধান উপায়ে। ফলে বহু ক্ষেত্রেই এ দেশে পরিশ্রমী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের চেয়ে রাজনীতিঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আমলারা বেশি সম্পদশালী। সংবিধানের কাঠামো এই বাস্তবতা নির্মাণ করায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এটাই সমাজে মোট সম্ভাব্য সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাকে সীমিত করে রাখে, যার ছাপ আমরা দেখি সব পেশায়, এমনকি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও।
৪
সংবিধান সংস্কার কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কারে যে কয়টি সুপারিশ করেছে, সেগুলো হলো ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ, মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎকরণ নিশ্চিতকরণ।
কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, সম্পদের প্রবাহের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কায়েম করা রাজনৈতিক সরকার ও আমলাতন্ত্র—উভয়েই এই বিষয়ে ন্যূনতম আগ্রহী থাকবে। অন্যদিকে তরুণ জনগোষ্ঠীকে এই ক্ষমতাকাঠামোতে বেঁধে রাখার যে বন্দোবস্ত কার্যকর ছিল, আওয়ামী লীগের অপসারণের মাধ্যমে সেটার অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগের আমলের বড় সময়জুড়েই এ দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোয় প্রায় কবরের শান্তি বিরাজ করেছে, মাঝেমধ্যে যে শব্দটুকু শোনা গেছে, তা নিপীড়নের শিকারদের আর্তনাদ। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন ও কোটা সংস্কারের প্রথম আন্দোলনকে হাতুড়িপেটা করে দমন করতে সক্ষম হয়েছিল হাসিনার সরকার। এমন কাজ এখন করা ততটা সহজ হবে না। চেষ্টা চলতে পারে, কিন্তু প্রতিরোধ ও প্রতিবাদও আগের চেয়ে অনেক দ্রুত সংগঠিত হবে।
কারণ, অজস্র ব্যর্থতা থাকলেও গণ–অভ্যুত্থানের অন্তত একটা বড় অর্জন হলো, তৃণমূল থেকে গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার অপসারণ। চাঁদাবাজির মতো যত অভিযোগ সরকারি দলের বিরুদ্ধে থাকুক, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতার কারণেই আওয়ামী লীগের মতো করে তৃণমূলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি করা বিএনপির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে সংস্কার না হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তরুণদের সংঘাত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সংঘাতের পরণতিতে দঙ্গলবাজির নিপীড়ক সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে, নাকি প্রগতিশীল আন্দোলনের বিকাশ ঘটাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সমুদ্রমন্থনের পর শুরুতে উঠে এসেছিল বিষ, তারপর অমৃত। অভ্যুত্থানের পর বিষাক্ত ও সহিংস দঙ্গলবাজির সংস্কৃতি আমরা দেখেছি। অমৃত উঠবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর।
এসব আলোচনা জরুরি, কেননা বাংলাদেশের তরুণেরা যদি সত্যিই ইতিবাচক আন্দোলনের পথে দানা বাঁধতে পারে, তাহলে গণ–অভ্যুত্থান যেসব সংস্কারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, সেগুলো বাস্তবে রূপ পাবে। দার্শনিক কার্ল মার্ক্স যেমন বলেছিলেন, মানুষ গ্রহণ করলে তত্ত্ব নিজেই একটা বস্তুগত শক্তিতে পরিণত হয়। l
* ফিরোজ আহমেদ: লেখক ও রাজনৈতিক সংগঠক
সূত্র: প্রথম আলো