গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

সন্তানদের কাছে মেলেনি ঠাঁই, ৯৫ বছর বয়সী বাবার ঠিকানা গাছতলায়

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
সন্তানদের কাছে মেলেনি ঠাঁই, ৯৫ বছর বয়সী বাবার ঠিকানা গাছতলায়

জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সেই সন্তানদের কাছে তিনি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ছয় সন্তানের মধ্যে কারো কাছেই তার ঠাঁই হয়নি। ছেলে-মেয়েরা সবাই মিলে জমিজমা লিখে নিয়ে তাকে রেখে দিয়েছেন বাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে। এখানেই দিন কাটছে বৃদ্ধা শামসুল হকের।

বৃদ্ধ শামসুল হক (৯৫) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।

জানা গেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। অন্যদিকে চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

বৃদ্ধ হাজী শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।

গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন বাকি জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এ বৃদ্ধের কোনো সন্তানই খোঁজখবর তেমন রাখছেন না।  শামসুল হক মোল্লা গত কয়েকদিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।

কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে আসলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছে নিচে রেখে দেয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শামসুল হকের মেয়ে মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামীও অসুস্থ। তারপর আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যার কারণে আমার পক্ষে আমার বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।

শামসুল হকের মেজো মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছে। দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছে। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করব? 

এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী বলেন, শামসুল হক মোল্লার জমি লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না। তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতেন তাহলে হয়ত এ অবস্থা হতো না। সন্তানরা যেটি করছেন, সেটি কোনোভাবেই কাম্য না।

বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, আমি এখন কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন কষ্ট করে যাদেরকে বড় করলাম, তাদের কাছে আমি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ উজ্জামান বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরিফিনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। শামসুল হক সাহেবের সন্তানেরা যদি তার বাবার দেখাশোনা না করেন, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ’ আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।