গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

গোলামের সরলতা নাকি শেহজাদের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
গোলামের সরলতা নাকি শেহজাদের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি

গোলামের সরলতা এবং শেহজাদের তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে মুগ্ধ দর্শক। আর্থিক সজীব বা সজীব উদ্দিনের চমৎকার ভাবনায় এবং অর্ণব জাকিরের ধারালো ডায়ালগে নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাইদুর রহমান সবুজ। প্র্যাঙ্ক কিং এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত সমকালীন জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘দুনিয়া টাকার গোলাম’ এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ সাড়া ফেলেছেন তরুণ অভিনেতা শোয়েব শান্ত। এই দীর্ঘ ধারাবাহিকে কোনো বড় মেগাস্টার ছাড়াই কেবল গল্প এবং অভিনয়ের জোরে নাটকটি ইউটিউবে প্রায় ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছে। নাটকটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে অভিনেতা শোয়েব শান্তর ফুটিয়ে তোলা দ্বৈত রূপের দুটি ভিন্নধর্মী চরিত্র ‘গোলাম’ এবং ‘শেহজাদ’।

গোলাম চরিত্রটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় কেন এবং এই চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব, সমাজের অবমূল্যায়ন ও সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ফুটিয়ে তুলতে কেমন প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, সে প্রসঙ্গে শোয়েব শান্ত দৈনিক কালবেলাকে জানান, এই গল্পে তার দুটি চরিত্র রয়েছে। একটি শেহজাদ, অন্যটি গোলাম। দর্শক দুটি চরিত্রকেই বেশ পছন্দ করেছেন, যা তার জন্য অনেক আনন্দের। শেহজাদ চরিত্রটি একজন আধুনিক ও উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ীর। তিনি গোল্ডের ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। নিজের সামনে কোনো অন্যায় হলে তিনি কখনোই তা মেনে নিতে পারেন না। এ কারণে অনেক দর্শক তাকে গরিবের রবিনহুড বলেও অভিহিত করেন। অন্যদিকে, গোলাম একেবারেই ভিন্ন ধরনের একটি চরিত্র। সে গ্রামের সহজ-সরল একজন ছেলে। তার জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা ও ব্যক্তিত্ব শেহজাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি ব্যক্তিগতভাবেই দুটি চরিত্র খুব উপভোগ করছেন। তবে একই গল্পে সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্যের দুটি চরিত্রকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। একদিকে শেহজাদের ব্যক্তিত্ব ও অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছিল, অন্যদিকে গোলামের সরলতা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে হচ্ছিল। সব মিলিয়ে দুটি চরিত্রই তার অভিনয়জীবনে দারুণ উপভোগ্য ও চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

নাটকে সাবলীল অভিনয় ও সংলাপ প্রক্ষেপণ দর্শকদের গভীরভাবে আবেগতাড়িত করার বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক কালবেলাকে শোয়েব শান্ত বলেন, শেহজাদ ও গোলাম দুটি চরিত্রই তার অভিনয়জীবনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। তবে বিশেষ করে শেহজাদ চরিত্রটি তাকে আলাদা একটি পরিচিতি এনে দিয়েছে। এখন রাস্তায় বের হলে অনেক দর্শক তাকে শেহজাদ নামে ডাকেন। বিষয়টি তার কাছে সত্যিই অনেক আনন্দের এবং তিনি ভীষণ উপভোগ করেন। শেহজাদ চরিত্রটির জন্য তাকে অনেক প্র্যাকটিস করতে হয়েছে। চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, কথা বলার ধরন এবং চলাফেরার মধ্যে একটা আলাদা আভিজাত্য ও আলফা ম্যানের মতো ভাইব রয়েছে। তিনি চেষ্টা করেছেন চরিত্রটিকে শুধু অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের মধ্যে ধারণ করতে। চরিত্রটি যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি এটি তার পরিচিতির একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। দর্শক তাকে শেহজাদ হিসেবে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তিনি চান সেই ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে। ভবিষ্যতেও চরিত্রটিকে আরও সুন্দরভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।

গল্পে নানা প্রতিকূলতা ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও শেহজাদ চরিত্রটির সততা ও নীতিতে অটল থাকা এবং ব্যক্তিগতভাবে এই চরিত্রের সঙ্গে একাত্মতা প্রসঙ্গে দৈনিক কালবেলাকে তিনি জানান, এই গল্পের কিছু বিষয় ও চরিত্রের সঙ্গে তার বাস্তব জীবনের বেশ মিল রয়েছে। বিশেষ করে শেহজাদ চরিত্রটির কথা বলতে গেলে, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও অনেকটা শেহজাদের মতো হতে পছন্দ করেন। চরিত্রটি তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। মাঝে মাঝে বাস্তব জীবনেও তিনি শেহজাদের মতো ব্যক্তিত্ব ধারণ করার চেষ্টা করেন। এই চরিত্রটিকে লেখক অর্ণব জাকির অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বেশ কিছু অসাধারণ সংলাপ তিনি লিখেছেন, যেগুলো ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং ভাইরাল হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান আর্থিক সজীবকে, যিনি তাকে এমন একটি চমৎকার চরিত্রের জন্য নির্বাচন করেছেন এবং এই গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে শেহজাদ চরিত্রটি তার কাছে শুধু একটি অভিনয়ের চরিত্র নয়, বরং এটি তার ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণারও একটি জায়গা।

নাটকটির দুটি চরিত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাটকের শুরুর ভাগে শান্তকে দেখা যায় গোলাম হিসেবে। এই চরিত্রটি সমাজের একেবারে নিম্নবিত্ত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। অত্যন্ত সাধারণ, নম্র-ভদ্র এবং মুখচোরা স্বভাবের এই যুবকের পোশাক-আশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট। টাকার অভাবে সমাজে পদে পদে লাঞ্ছিত হওয়া, উচ্চবিত্তদের অহংকার ও শোষণের শিকার হওয়া এবং ভাগ্যের পরিহাসে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকা এই চরিত্রের মূল ভিত্তি। এই চরিত্রে শান্তর অসহায় চাহনি এবং আবেগী অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে।

অন্যদিকে গল্পের মোড় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাটকে আগমন ঘটে শান্তর দ্বিতীয় রূপ শেহজাদের। এই চরিত্রটি মূলত টাকার দুনিয়ায় ক্ষমতা ও প্রতিশোধের সমীকরণ বদলে দিতে আসে। অত্যন্ত চতুর, আত্মবিশ্বাসী, ড্যাশিং এবং প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্বের চলন-বলন, পোশাক এবং ডায়ালগ ডেলিভারিতে রয়েছে আভিজাত্য ও তেজস্বী ভাব। সে টাকার গোলাম নয়, বরং টাকাকে নিজের গোলাম বানাতে জানে। এই চরিত্রে এসে সে অন্যায়, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। গ্রামে মুখ বুজে অন্যায় সহ্য করা গোলাম আর শহরের ক্ষমতাধর শেহজাদ যখন মুখোমুখি অবস্থানে আসে, তখন নাটকের সাসপেন্স বহুগুণ বেড়ে যায়।

একই নাটকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র একসঙ্গে ফুটিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অভিনেতা শোয়েব শান্ত দৈনিক কালবেলাকে জানান, গোলাম এবং শেহজাদ এই দুটি ভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করতে তাকে প্রচুর পরিশ্রম ও বেগ পেতে হয়েছে। একদিকে গোলামের কান্না ও সরলতা, অন্যদিকে শেহজাদের ক্রূর বুদ্ধি ও ক্ষমতার দাপট—দুটি রূপেই শান্তর পরিপক্ব অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। মূলত এই দুই চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং প্রতিটি পর্বের শেষের টানটান উত্তেজনা বা টুইস্টই নাটকটিকে ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: কালবেলা

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।