গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে যেভাবে নিহত হন তৌফিক

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে যেভাবে নিহত হন তৌফিক

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে একটি গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকজনের মারধরে প্রাণ হারিয়েছেন পোশাকশ্রমিক মো. তৌফিক হোসেন। বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও সেই দাবি নাকচ করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধু ও সহকর্মী মো. সাব্বির হোসেন। তার ভাষ্য, দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নয়, বরং একটি গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকজনের মারধরের শিকার হয়েই গুরুতর আহত হন তৌফিক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে মারা যান তৌফিক। এর আগের দিন সোমবার গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সময় তৌফিকের সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু ও সহকর্মী সাব্বির হোসেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে কালবেলা অনলাইনকে তিনি বলেন, তৌফিকের কাছে কোনো স্মার্টফোন ছিল না। তার সঙ্গে ছিল কেবল একটি বাটন ফোন। ফলে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘আমরা তখন লাঞ্চ করতে বাসায় আসি। খাওয়া-দাওয়া করে অফিসের দিকে যাওয়ার সময় একটি গার্মেন্টসের সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি দুপক্ষ হামলা করতেছে। এখানে ওই গার্মেন্টসের মালিক কিছু লোক রেখেছিল, যারা বিক্ষোভকারীদের দৌড়াচ্ছিল। তো আমরা যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী ও ওই গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকেরা সামনাসামনি হামলা করলে আমরা দুজন মাঝে পড়ে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকজন বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিলে আমরা দৌড়ে অন্যদিকে চলে যায়। আমিও দৌড়ে রাস্তার অন্যপাশে চলে যাই। তখন পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তৌফিক নিচে পড়ে আছে। তাকে মারধর করেছে ভাড়া করা লোকরা।’

সাব্বিরের দাবি, গার্মেন্টসের ভাড়া করা লোকজনের মারধরেই গুরুতর আহত হন তৌফিক। তবে তিনি যে কারখানাটির কথা বলেছেন, সেটির নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুল উচ্চারণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সঠিক নাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে কালবেলা।

তৌফিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাদের কয়েকজন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের সময় বিভিন্ন গার্মেন্টসের মালিক নিজেদের কারখানা রক্ষায় লোকজন নিয়োগ করেছিলেন। এসব লোক কারখানার আশপাশে পাহারায় ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাদের হামলার শিকার হয়েই প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন তৌফিক।

নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।