গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুনের হয়ে টাকার চুক্তি করতেন ছাত্রদল নেতা 

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুনের হয়ে টাকার চুক্তি করতেন ছাত্রদল নেতা 

সাতক্ষীরার দেবহাটার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ, টাকার দর-কষাকষি ও চুক্তি করতেন সখীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল। সম্প্রতি এক জনপ্রতিনিধির পারিবারিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারের পাশাপাশি সামনে এসেছে জিসান বাবুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর কথোপকথনের দুটি অডিও। অডিওতে ভিডিও মুছে দেওয়ার বিনিময়ে কয়েক দফায় টাকা দাবির বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায় বাবুলকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুনের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় জিসান বাবুলকে। তিনি মাঝ সখীপুর গ্রামের মৃত দাউদ গাজীর ছেলে।

সম্প্রতি এক জনপ্রতিনিধির পারিবারিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ফাঁস হওয়া প্রথম অডিওতে জিসান বাবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, কী লাইন? আপডেট জানালেন না। সে (মামুন) এক কথায় রাজি না। সে বলেছে, আমি এসব ছোটখাটো কাজ করি না। ভালো করে খায়, না হলে খায় না ভাই। না হলে থাক, সমস্যা নেই।’

এরপর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বাবুল বলেন, ‘ভাই, সে এক কথায় এক লাখ টাকা চাচ্ছে। এবার কী বলব বলেন? সে তো ৫০ হাজার টাকার কথাও শুনবে না।’

দ্বিতীয় অডিওতে ভিডিও মুছে দেওয়ার বিষয়ে মামুনের সঙ্গে কথা বলার বিবরণ দেন বাবুল। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বললাম, ভাই, জিনিসটা বেশি বাড়াবাড়ি করিয়েন না, জিনিসটা ডিলিট করে দেন। হ্যাঁ বলার পর সে বলল, সব সমাধান হোক, আমি ডিলিট করে দিচ্ছি। সমস্যা নেই। আপনি যে অ্যামাউন্ট চাচ্ছেন, সেই অ্যামাউন্টে আপনার সঙ্গে ডিল ফাইনাল করতে হবে।’

ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বাবুল আরও বলেন, ‘ভাই, আপনি তো জানেন, ভুক্তভোগী আপনার আত্মীয় হওয়ায় শুধু আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে সেগুলো ছাড় দিয়েছি।’

একই অডিওতে তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলতে শোনা যায়। বাবুল বলেন, ‘শুধু একটা স্টোরি দিয়েছি। ভাই, ৩০ হাজার টাকা দেবেন, থেমে যান ভাই। নিজেদের মধ্যে এটা করিয়েন না।’

এরপর তিনি আরও বলেন, ‘সে বলছে, ওকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার দরকার নেই। আমার তো বাণিজ্য করার দরকার নেই, আমার ভিউর দরকার। আপনার আত্মীয়কে বলবেন, দেখা করবেন, কথা বলবেন। ব্যস্ততার কারণে আমি সময় দিতে পারিনি। আপনি ৫০ হাজার টাকা দেন, আমি হাত-পা ধরে হলেও আপনার ভিডিওর বিষয়টি মিটমাট করে নেব।’

এদিকে গত ১ নভেম্বর এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করেন দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে করা হয়েছে দ্বিতীয় আসামি। ভুক্তভোগীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমিকে করা হয়েছে তৃতীয় আসামি। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে প্রধান আসামি জিসান বাবুলের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। তবে ঝামেলায় আছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা কোনো অনৈতিক ও অন্যায় কাজ করলে তাকে দল আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। দলের নাম করে কোনো অপকর্ম মেনে নেওয়া হবে না। তার বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতক্ষীরা সদর থানায় করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।