জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন বৃদ্ধ হাজি শামসুল হক মোল্লা। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সেই সন্তানদের কাছে তিনি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ছয় সন্তানের মধ্যে কারও কাছেই তার ঠাঁই হয়নি।
এ বিষয়ে দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ্জামানের হস্তক্ষেপে বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজ বাড়িতে থাকার জায়গা পেলেন সেই ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা হাজি শামসুল হক।
বৃদ্ধ শামসুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।
এ বিষয়ে ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা কালবেলাকে জানান, নিজ বাড়িতে আসতে পেরে আমার ভালো লাগছে এবং জীবনের বাকি সময় এখানেই থাকতে চাই।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ্জামান কালবেলাকে বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলার হিরন ইউনিয়নের বৃদ্ধ হাজি শামসুল হককে আজ তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি যেন সেখানে ভালোভাবে থাকতে পারেন জেলা প্রশাসন সেদিকে নজর রাখবে।
উল্লেখ্য, হাজি শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। অন্যদিকে চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।
বৃদ্ধ হাজি শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার-সন্তান নিয়ে ব্যস্ত। কয়েক বছর আগে হাজি শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন বাকি জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এ বৃদ্ধের কোনো সন্তানই খোঁজখবর তেমন রাখছেন না। শামসুল হক মোল্লা কয়েক দিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।
কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে এলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজি শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছে নিচে রেখে যান। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ উজ্জামান অবগত হওয়ায় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরিফিনকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স