গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

নিজের নামে সিম তুলতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
নিজের নামে সিম তুলতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী

সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেছেন আব্দুল মালেক (৫৬)। নিজের নামে একটি মোবাইল সিম তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, তার এনআইডির বিপরীতে আগেই নিবন্ধিত হয়েছে ১৮ সিম। তার দাবি, তিনি নিজে একটি সিমও উত্তোলন করেননি। বিভিন্ন অপারেটরের কাছে যোগাযোগ করে কিছু সিম বাতিল করতে পারলেও এখনো সব সিম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

নিজের পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে সিম উত্তোলনের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। 

ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত নোয়াব আলীর ছেলে।

মালেক জানান, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়নি। দেশে ফিরে প্রায় দুই মাস আগে এনআইডির জন্য আবেদন করেন। এক সপ্তাহ আগে কার্ড হাতে পান। সুজাতপুর বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে নিজের নামে সিম তুলতে গেলে দোকানদার জানান- তার এনআইডির বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৮টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে। পরে চাঁদপুরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সিম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করেন তিনি। 

ভুক্তভোগী মালেক বলেন, ‘আমি তো একটা সিমও ক্রয় করিনি। এই সিমগুলো উঠাইলো কারা, কী ভালো-মন্দ কাজে ব্যবহার হচ্ছে; কিছুই জানি না। কষ্ট করে সিমগুলো বাতিল করলাম। কিন্তু ভবিষ্যতে আবার যদি ওই চক্র সিম তুলে নেয়, তখন আমি কী করব?’

তিনি দাবি করেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় শুধু নির্বাচন অফিসেই আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোথাও আঙুলের ছাপ দেননি। শুধু সিম বাতিল নয়, ভবিষ্যতে যেন তার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নতুন করে কোনো সিম নিবন্ধন করা না যায়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ঘটনায় থানায় যোগাযোগ করলে তাকে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান মালেক। তার আশঙ্কা, এসব সিম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটালে হয়রানির শিকার হতে পারেন তিনি।

মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ‘একজন নাগরিকের অজান্তে তার এনআইডির বিপরীতে ১৮টি সিম নিবন্ধনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কারা এসব সিম নিবন্ধন করেছে, তাদের শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুলতানা এলিন বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এ ধরনের ঘটনা প্রথম দেখলাম। একজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ছাড়া কীভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এতগুলো সিম নিবন্ধন করা সম্ভব, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমাদের অফিসের সার্ভার হ্যাক করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।

চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, এটার দায়ভার আমাদের নয়। এ দায়ভার নিতে হবে সিম কোম্পানিগুলোর।

চাঁদপুর বিটিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিব আহম্মেদ বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করি না। এটা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিষয়।

তবে সিম নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরগুলোর কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।