কানাডার টরন্টোয় ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কাজের জায়গায় মানবিক মর্যাদার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন শত শত ফুড ডেলিভারি চালক। ২ নভেম্বর ডাউনটাউন টরন্টোর নাথান ফিলিপস স্কয়ারে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে বেশ কিছু কানাডায় বসবাসরত অনেক বাংলাদেশিকে দেখা যায়।
ডেলিভারি ড্রাইভার্স ইউনাইটেড নামের একটি নতুন সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটিতে উবার ইটস (Uber Eats), স্কিপ (Skip) এবং ডোরড্যাশ (DoorDash)-এর মতো জনপ্রিয় অ্যাপ–ভিত্তিক ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কর্মরত নয় শর বেশি চালক রয়েছেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া আমীর আলী নামের এক চালক নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টাই আমাদের রাস্তায় কাটাতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিকূল ট্রাফিক ও আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রাহকের কাছে খাবার পৌঁছে দিই, অথচ সেই তুলনায় আমাদের আয় একেবারেই অপ্রতুল। আমি নিজে ৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৪৫ মিনিটে একটি অর্ডার ডেলিভারি করে মাত্র ৩ ডলার পেয়েছি।’
সমাবেশ শেষে চালকেরা তাঁদের বিভিন্ন দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি নিয়ে ব্লুর এবং চার্চ স্ট্রিটে অবস্থিত উবার কানাডার সদর দপ্তরে যান। ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও তাঁদের মূল কার্যালয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন তাঁরা।

চালকদের মূল দাবিগুলো হলো—
১. ন্যায্য ও জীবনধারণোপযোগী মজুরি: বকশিশ (টিপস) বাদ দিয়েই যেন একটি সম্মানজনক মূল বেতন পাওয়া যায়, সেটির নিশ্চয়তা দেওয়া।
২. ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা: রাইডের মূল ভাড়া কীভাবে হিসাব করা হচ্ছে ও রেস্তোরাঁয় বাড়তি সময় অপেক্ষার জন্য কত পারিশ্রমিক যোগ হচ্ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা।
৩. স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা বিমা: কাজের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা কাভার করাসহ সার্বিক স্বাস্থ্য বিমার পরিধি বাড়ানো।
৪. রেস্তোরাঁয় মৌলিক সুবিধা: খাবার নেওয়ার সময় রেস্তোরাঁর শৌচাগার ব্যবহার ও ইনডোরে বসে অপেক্ষা করার অধিকার প্রদান।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক স্যামুয়েল নিথিয়ানানথন জানান, অ্যাপ–ভিত্তিক এই কাজগুলোকে সাধারণ ‘পার্টটাইম’ বা নমনীয় কাজ বলা হলেও বাস্তবে অনেক চালক দিনে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করছেন। অথচ অনেক ক্ষেত্রে ৩০ মিনিটের একটি ডেলিভারিতে তাঁরা মাত্র দেড় ডলার থেকে তিন ডলার পর্যন্ত পাচ্ছেন, যা প্রাদেশিক ন্যূনতম মজুরির চেয়ে অনেক কম। উল্লেখ্য, অন্টারিও প্রদেশে মিনিমাম ওয়েজ ১৭ ডলার ৯৫ সেন্টস।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
অন্যদিকে উবার কানাডা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা বেতনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখে ও প্রদেশের আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি নীতি মেনে চলে। ডোরড্যাশ ও স্কিপ কর্তৃপক্ষও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে জানিয়েছে, তারা কর্মীদের স্বায়ত্তশাসন ও নমনীয় কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি নির্ধারিত ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করে থাকে।
তবে চালকদের অভিযোগ, রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি কোম্পানিগুলো শুরুতে আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ বা বোনাস দিয়ে কর্মীদের টেনে আনে, কিন্তু পরে পারিশ্রমিক কমিয়ে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে টিকে থাকার জন্য চালকদের আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে।
সংগঠকেরা জানিয়েছেন, দাবি আদায়ে ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
সূত্র: প্রথম আলো