প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম || প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবুল হাশেমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে তার ছবি এবং লিটনের নির্বাচনি প্রচারণায় নৌকা প্রতীকের লিফলেট হাতে থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিতর্ক তৈরি হয়। এতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা আবুল হাশেম ২০০০ সালে রুয়েটে টেকনিশিয়ান পদে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে কর্মরত। এর পাশাপাশি কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পালন করছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব। তার অধীনে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৭৫ জন আনসার সদস্য। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তার ওপর।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, নিজ দপ্তরে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন আবুল হাশেমসহ কয়েকজন। অন্যদিকে, লিটনের নির্বাচনি প্রচারণায় নৌকা প্রতীকের লিফলেট হাতে তার নেতৃত্ব দেওয়ার ছবি ও ভিডিও নিয়েও আলোচনা চলছে। এসব দৃশ্য সামনে আসার পর তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আবুল হাশেমকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি তার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ। রুয়েটের কর্মকর্তা হয়েও তাকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের লিফলেট হাতে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখায় আমরা উদ্বিগ্ন। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে।’
তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল হাশেম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, কখনো ছিলও না। রুয়েটে কর্মরত থাকার সুবাদে কর্মকর্তা সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি। আপনারা যে ছবিটি দেখেছেন, সেটি কর্মকর্তা সমিতির আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব পালনের সময় তোলা। সে সময় কমিটির সবাই মিলে সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। সেই ছবিটিই কে বা কারা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।’
লিটনের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনো তার প্রচারণায় যাইনি। কর্মকর্তা সমিতির ব্যানারে সমিতির অন্য সদস্যরা যখন ভোট চাইতে গেছেন, তখন তাদের সঙ্গে হয়তো আমিও গিয়েছি।’
এদিকে, আবুল হাশেমের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘আবুল হাশেম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তার মতো সাহসী কর্মকর্তা রুয়েট ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। এ কারণেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘তিনি ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করেছেন। সুতরাং যারা তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলছেন, তাদের অনেকেই ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের কাজে লিপ্ত।’
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স