চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় আট বছরের শিশু সোহাগকে বরই খাওয়ানোর প্রলোভনে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে হত্যার দায়ে মো. ইমন হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঘটনার প্রায় আট বছর পর ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১’র বিচারক নিষ্কৃতি হাগিদক এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ কালবেলাকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডিত ইমন হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ পশ্চিমপাড়া রব চৌকিদার মাঝির বাড়ির আব্দুল করিমের ছেলে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ দুপুরে পতেঙ্গার খালপাড় এলাকায় খেলছিল শিশু সোহাগ। এ সময় রিকশাচালক ইমন তাকে বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে চেয়ারম্যান গলির একটি পরিত্যক্ত ভাড়া ঘরে নিয়ে যান। সেখানে ৫০ টাকা দিয়ে শিশুটিকে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। এতে সোহাগ বাধা দিয়ে চিৎকার করলে এবং পালানোর চেষ্টা করলে ইট দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করেন ইমন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই পরিত্যক্ত ঘর থেকে সোহাগের মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহের পাশে পাওয়া যায় রক্তমাখা ইট। পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইমনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নিহত সোহাগের বাবা মো. ফারুক হোসেন ভূঁইয়া পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।
সূত্র: কালবেলা