গণমাধ্যম
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ এএম

শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে কার্যকরসহ ১৫ দাবি জামায়াতের

জাতীয়
গণমাধ্যম ডেক্স
শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে কার্যকরসহ ১৫ দাবি জামায়াতের

পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করাসহ নবগঠিত মজুরি বোর্ডের কাছে ১৫টি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি তার শ্রমের ন্যায্য অধিকার। শ্রমিকের শ্রম ও উৎপাদনের ওপর দাঁড়িয়ে যে শিল্প ও অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, সে শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ড গঠন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে জাতীয় শ্রমিক দলের নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে রাখা হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের শ্রমিকসংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাউকে এ বোর্ডে রাখা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, মো. শাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

জামায়াতের দাবিগুলো

জামায়াতের অন্য দাবিগুলো হলো নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা ও নিহত শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া; কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে চলমান শ্রম অসন্তোষের ঘটনায় গ্রেপ্তার নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা; সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ; শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ; সংকট নিরসনে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধিসহ এ খাতের অংশীজনদের অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করা; নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ বা স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি, ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অপচেষ্টা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিরোধ; বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া এবং শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, কালোতালিকাভুক্ত শ্রমিকদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাঁদের পুনরায় কাজের সুযোগ দেওয়া; শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভাতা, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ; ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা; নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পোশাকশিল্প, শ্রমিকদের চাকরি, মালিকদের বিনিয়োগ এবং জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় শ্রমিক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম আহমেদ | বার্তা সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম

© ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।